বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাবলিগ জামাতের ধর্মীয় কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদের অনুসারীরা। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ নাম ব্যবহার করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের দাবি, ওই সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে উসকে দিচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাবলিগ জামাতের ধর্মীয় কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ বিষয়কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি। এ ছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের তারিখ ঘোষণা, ময়দান ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের মসজিদগুলোতে তাবলিগের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘেœ পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সহিংসতা এবং বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত প্রাণহানির ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ সালে ইসমাইল ম-ল ও শামসুদ্দিন বেলাল এবং ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলাল হোসেন ও মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জে আব্দুর রহিম রাজন এবং ২০২৩ সালে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় শামসুল হকের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় ইজতেমা ময়দান খালি করার বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ১৭ ডিসেম্বর রাতে ডা. আসগরের নামে প্রচারিত কথিত অডিও রেকর্ডের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে তাবলিগের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা, মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধ এবং এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি প্রচারণা ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিরোধগুলো আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে।