Published on
:
2 min read
দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া
এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। এই তাগিদে জোট বেঁধেছিলেন কয়েক জন সৎ, পরিশ্রমী ও প্রতিবাদী মহিলা। সময়টা ২০২৩। সবাই মিলে গড়ে তুললেন ক্লাব, 'বীরাঙ্গনা সঙ্ঘ'। ক্লাবের মহিলাদের উদ্যোগে প্রতি বছর সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়। গত বছর থেকে ক্লাবের সদস্যরা শুরু করেছেন দুর্গোৎসব। পাঁশকুড়ার পাতন্দার সেই বীরাঙ্গনা সঙ্ঘ পুজোয় এ বার থিম বেছে নিয়েছে 'অক্ষরজ্ঞান'। সাক্ষরতার প্রয়োজন যে কতটা জরুরি তা নিয়ে মণ্ডপ জুড়ে রয়েছে সচেতনতার বার্তা। মণ্ডপসজ্জার ভার নিজেদের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন ক্লাবের মহিলারা। গ্রামীণ পরিবেশের এই পুজোকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনাও যথেষ্ট এলাকায়।
মাইশোরা পঞ্চায়েতের পাতন্দায় স্থানীয় বাজারে বারোয়ারি দুর্গাপুজো হয়। কিন্তু সেখানে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে না। বিষয়টা ভালো লাগত না বীরাঙ্গনা সঙ্ঘের সদস্যদের। ক্লাব সম্পাদিকা সুনীতা মান্নার উদ্যোগে এবং অন্যদের সহযোগিতায় ২০২৫-এ শুরু হয় দুর্গাপুজো। সদস্যরা নিজেরাই টাকা, চাল, সামগ্রী জোগাড় করে নেমে পড়েন আয়োজনে।
প্রথম বছরেই এলাকায় সাড়া ফেলে দেয় এই ক্লাবের পুজো। এ বছর ক্লাব সদস্যদের ভাবনায় পুজোর থিম 'অক্ষরজ্ঞান'। পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। মণ্ডপের ভিতরে ঝোলানো অসংখ্য স্লেট। চক দিয়ে স্লেটগুলিতে লেখা আছে অক্ষরজ্ঞানের প্রাথমিক পর্যায়। শুধু তাই নয়, পেনসিল-খাতা সহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রীর মডেলে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ।
মণ্ডপের চারিদিকে পাকা দালান। দালানে পোস্টারের মাধ্যমে পথ নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ এবং ডেঙ্গি সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিমার রূপ সাবেক। আজ, বৃহস্পতিবার পঞ্চমীতে পুজোর উদ্বোধন করবেন পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। অংশ নেবেন ক্লাবের মহিলারা। পুজোর কয়েকদিন দু'বেলা ক্লাবের সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের লোকজনের একত্রে খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও করা হয়েছে।
ক্লাব সদস্য রমা মান্নার কথায়, 'আমরা সবাই মণ্ডপের কারিগর। থিমের ভাবনাটা আমার ছেলে অর্ঘ্যদীপের। বড় থেকে ছোট সবাই মিলে মণ্ডপ সাজিয়েছি।' আর এক সদস্য স্বস্তিকা মান্না বলেন, 'পুজোর মঞ্চে নাচ, গান ও গীতিনাটক পরিবেশনের জন্য একমাস ধরে মহড়া চলেছে।' দুর্গোৎসবে এ বার সরকারি এক লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছে ক্লাব। ক্লাব সম্পাদিকা বলেন, 'আমাদের মতো ছোট পুজো কমিটির কাছে এই অনুদান বড় প্রাপ্তি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।'