রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের জারি করা পর্যটন ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়ি শহরে মানববন্ধন করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গতকাল বুধবার শহরের শাপলা চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে সাজেকের পর্যটনশিল্প রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার ও স্বাভাবিক পর্যটন কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও জনগণ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সাজেক শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। পর্যটন কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তারা বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাজেকে আবারও পর্যটন কার্যক্রম চালুর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
এদিকে সাজেক সড়কে আবারও অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। তাদের তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে পুনরায় সাজেক সড়কে অবরোধ পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
গতকাল বুধবার সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিবৃতিতে জানান, জেএসএসের সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্থগিত করা অবরোধ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হচ্ছে।
নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সাজেকের মাচালং, থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলী, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়ি এলাকায় প্রকাশ্য সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ সরবরাহকারী ও সাংবাদিকদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। এদিকে পর্যটন বন্ধ থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়ে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করেছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ। সেখান থেকে পর্যটকদের জন্য সাজেক ভ্যালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এলাকার নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক প্রবেশ ও অবস্থান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে।