শখ করে বিষাক্ত গোখরা সাপ পুষতেন কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার জালে আটকে থাকা সাপটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। সাপটির জন্য তৈরি করেছিলেন আলাদা কাঠের বাক্স। নিয়মিত খাবার হিসেবে দিতেন মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার। তবে সেই শখের সাপের কামড়েই এখন হাসপাতালে তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার খাবার দেওয়ার জন্য বাক্স খুলতেই ইকবালকে কামড় দেয় সাপটি। পরে অসহ্য যন্ত্রণায় স্ত্রী রিনা আক্তারকে বিষয়টি জানান তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে অ্যান্টিভেনম দিচ্ছেন।
এদিকে সাপটি স্থানীয়রা মেরে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।
ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের প্রতি তার স্বামীর শখ ছিল। কয়েক মাস আগে বিল থেকে সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করলেও স্বামী তার কথা শোনেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই তার স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন জানান, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে সাপটি না পুষতে বারবার নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে তিনি কারও কথা শোনেননি। বৃহস্পতিবার সেই সাপই তাকে কামড় দিয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাবিন ইশতিয়াক জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার হাত ফুলে গিয়েছিল। বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ ছিল। দ্রুত তাকে পর্যবেক্ষণে নিয়ে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বর্তমানে তার অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা চলছে। তবে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, বিষধর সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসা জরুরি। হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।
