বাড়িতে টাওয়ার বসানোর নামে আর্থিক প্রতারণা! ডেরার হানা দিয়ে প্রতারকদের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। মিলল বিহার যোগ। গ্রেপ্তার বাংলা ও বিহারের ৮। ধৃত তিন যুবতী-সহ ৫ যুবক। উদ্ধার বহু নকল আই কার্ড, সিম, মোবাইল ল্যাপটপ, ল্যান ফোন-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশকিছু দিন ধরে দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল প্রতারকরা। বানিয়েছিল অফিস। বাইরে বোঝা নয় সেখানে কী চলছে। সেই অফিসের আড়ালে চলত ‘অপারেশন’। বাংলার বেশ কিছু যুবককে নিয়ে বিহারের একটি দল প্রতারণার ছক কষত। কীভাবে কারবার চালাত তাঁরা?
জানা যাচ্ছে, ওই ভাড়া বাড়িতে বসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফোন করত যুবক-যুবতীরা। ফাঁকা জমিতে বা বাড়িতে মোবাইল পরিষেবা সংস্থার টাওয়ার বসানোর প্রস্তাব দিতেন তারা। দেওয়া হত মোটা টাকার প্রস্তাব। সঙ্গে অন্যান্য প্রতিশ্রুতি। ফাঁদে পা দিলেই পরবর্তী ধাপে চলত টাকা হাতানোর প্রক্রিয়া। সমস্ত তথ্য হাতিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইলে পাঠানো ওটিপি চাইত প্রতারকরা। সেই ওটিপি দিয়ে দিতেই কেল্লাফতে! চোখের নিমেষে খোয়া যেত লক্ষ লক্ষ টাকা। তারপরে আর ওই নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারত না প্রতারিত হওয়া ব্যক্তি।
এই সংক্রান্ত আসছিল দুর্গাপুর পুলিশের কাছে। শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর মেলে বেনাচিতির ওই ভাড়া বাড়িতে বসে চক্র চালানো হচ্ছে। তথ্য মিলতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বিশেষ দলের তল্লাশিতেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং বলেন, “আমাদের খবর আসে প্রতারকরা ওই ভাড়া বাড়িতে বসে এই কাজ করছে। আমাদের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। ওই বাড়ি থেকে সিম, অনলাইন নথি, একাধিক মোবাইল, ভুয়ো আইডেন্টিটি কার্ড-সহ একাধিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।” এই চক্রের মাথা কে বা কারা? কোথা থেকে অপারেট করা হত সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
