লেনদেনের খরায় পুঁজিবাজার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স
-->দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। লেনদেন কমতে কমতে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। ফলে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের হতাশাও বাড়ছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে থাকল। চলতি বছরে দুই কার্যদিবস লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে আটকে থাকার ঘটনা ঘটল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লিখিয়েছে। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। তবে বাজারটিতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
আরও পড়ুন
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আধাঘণ্টার বেশি সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকেনি। বরং প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেন পার হওয়ার পর লেনদেনের পুরো সময় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার প্রবণতা চলতে থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হলো।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ২১৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এ ছাড়া ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ১০৫টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৫৬টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৫৬টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া একটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৮টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তবে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরেই রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সোনালী আঁশের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। ১২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, পূবালী ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ৭২টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৬ পয়েন্ট।
আরও পড়ুন
যে কারণে আজ সারা দেশে স্বর্ণ বেচাকেনা বন্ধ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সব জুয়েলারি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফলে সারা দেশে আজ স্বর্ণের স্বাভাবিক বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। এর আগে রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে মহাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্বর্ণের কারিগরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আরও পড়ুন
বাজুসের এ সিদ্ধান্তের ফলে আজ দেশের কোথাও স্বর্ণের দোকানে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলবে না। তাই স্বর্ণ কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে ক্রেতাদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে মহাষ্টমীর ছুটি শেষে কবে থেকে স্বর্ণের দোকানগুলোতে স্বাভাবিক বেচাকেনা শুরু হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন
অন্তরা/
আরও পড়ুন
দিনাজপুরে কেঁচো সারে নাঈমের আয় লাখ টাকা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ এএম
দিনাজপুরের ভুসির বন্দরের ভার্মি কম্পোস্ট কারখানায় নাঈম হুদা কাজে ব্যস্ত। ছবি: খবরের কাগজ
-->ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে চাকরি শুরু করেছিলেন নাঈম হুদা। চাকরি করেই চলছিল সংসার। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপর করোনাকালে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ কমে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েন। একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে পরিবারের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার চাপ–সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয় তাকে।
তবু হাল ছাড়েননি। স্ত্রীর দেওয়া স্বর্ণের আঙটি বিক্রি করে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদনের উদ্যোগ। পরপর দুই দফা ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি।
নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপ বিক্রি করে আবারও শুরু করেন। সেই উদ্যোগই এখন তার আয়ের অন্যতম উৎস। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গড়ে তোলা খামারে প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন ৮ থেকে ১০ টন ভার্মি কম্পোস্ট সার। কর্মসংস্থান হয়েছে ৮ থেকে ১০ জনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন হযরত আলী, সাদিকুল ইসলাম ও মরিয়ম বেগম।
আরও পড়ুন
নাঈমের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। নিজের ফল ও সবজিবাগানের জন্য জৈব সারের প্রয়োজন থেকেই কেঁচো সার উৎপাদনের চিন্তা আসে তার মাথায়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুর থেকে ১০ কেজি কেঁচো কিনে আনেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথমবারই বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির পানি জমে কেঁচো মারা যাওয়ায় ব্যর্থ হন তিনি। পরে বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ধার করে আবারও ১০ কেজি কেঁচো কিনে আনেন। কিন্তু সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকায় দ্বিতীয়বারও সফল হতে পারেননি।
পরপর দুই দফা ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে পড়লেও কৃষিতে কিছু করার স্বপ্ন ছাড়েননি নাঈম। পরিবারের পক্ষ থেকে চাকরিতে ফিরে যাওয়ার চাপ থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
আরও পড়ুন
শেষ পর্যন্ত ব্যবহৃত ল্যাপটপটি এক বন্ধুর কাছে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আবারও কেঁচো কেনেন। এবার খামারে ছাউনি তৈরি করে গোবরের নির্দিষ্ট স্তরে কেঁচো ছাড়েন। প্রায় ১৫ দিন পর উৎপাদন শুরু হয় ভার্মি কম্পোস্টের। নিজের বাগানে ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের কাছে সার বিক্রি শুরু করেন। কৃষকরা জমিতে এ সার ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়ার কথা জানালে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে চাহিদা।
দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে নাঈম হুদা। উপজেলার ভুসির বন্দর বাজারসংলগ্ন পুকুর ধারে এই ভার্মি কম্পোস্ট বা কিছু সারের কারখানা তৈরি করেছেন নাঈম হুদা।
বর্তমানে ৫ থেকে ৬ শতক জমিতে গড়ে তোলা খামার থেকে মাসে ৮ থেকে ১০ টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন নাঈম। পাইকারিতে প্রতি টন ১৩ হাজার টাকা দরে সার বিক্রি করেন তিনি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ১৬ থেকে ১৮ টাকা। ফল ও সবজিচাষে ব্যবহারের পাশাপাশি পুকুরের মাছের খাদ্য হিসেবেও এ সার ব্যবহার করা হচ্ছে। খামারের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে নিয়মিত কাজ করছেন ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক।
খামারে প্রতিদিন কাজ করেন হযরত আলী। কেঁচো সার উৎপাদন, গোবর প্রস্তুত ও খামারের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থেকে তিনি নিয়মিত আয় করছেন। হযরত আলী বলেন, এ খামারে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তার কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন কাজ করে আয় করতে পারছেন, যা তার সংসার চালাতে সহায়তা করছে। নিয়মিত কাজের সুযোগ থাকায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন।
একই খামারে কাজ করেন সাদিকুল ইসলাম। কেঁচো সার তৈরির বিভিন্ন ধাপে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সাদিকুল ইসলাম বলেন, খামারে কাজ করে নিয়মিত উপার্জনের সুযোগ হয়েছে তার। আগে কাজের নিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তা থাকলেও এখন প্রতিদিন কাজ করার মাধ্যমে সংসারের খরচ মেটাতে পারছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বড় হলে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
খামারের আরেক কর্মী মরিয়ম বেগম। তিনিও প্রতিদিনের কাজে অংশ নিয়ে আয় করছেন। মরিয়ম বেগম বলেন, এ খামারে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তার কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। নিয়মিত কাজ করে নিজের আয় করতে পারছেন এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করছেন। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাদের মতো মানুষের উপকার হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক রতন কুমার মহন্ত বলেন, ‘আমি এখন ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে জমির উৎপাদন অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই আমি এখন রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করে ভার্মি কম্পোস্ট সার, বিশেষ করে নাঈম হুদার খামার থেকেই ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করে জমিতে দিচ্ছি। ফসল ভালো হচ্ছে। পানির সেচ কম লাগে। ফসল অনেক ভালো হয়। তাই আমি এখন জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছি।’
স্থানীয় কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে ফসলের ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের তুলনায় খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে কেঁচো সারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
উদ্যোক্তা নাঈম হুদা বলেন, নিজের বাগানের জন্য সার তৈরি করতে গিয়ে তার এই উদ্যোগের শুরু। প্রথম দিকে বারবার ব্যর্থ হলেও চেষ্টা বন্ধ করেননি। এখন নিজের খামারে উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজে উৎসাহিত করছেন। তার লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা, যাতে বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পান।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহুরা সুলতানা বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং মাটির গুণাগুণ উন্নত করতে সহায়তা করে। সুষম সার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এ ধরনের জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। নাঈম হুদার মতো উদ্যোক্তাদের সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও কেঁচো সার উৎপাদনের আগ্রহ বাড়ছে।
আরও পড়ুন
সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ৪০০ কোটি টাকা তুলবে কনফিডেন্স পাওয়ার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->দেশে তীব্র গ্যাসসংকট ও ব্যয়বহুল আমদানি করা জ্বালানির পটভূমিতে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি প্রতিনিধি কনফিডেন্স পাওয়ার। কক্সবাজার, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোট ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের রূপরেখা ঘোষণা করেছে তারা।
এই মেগা প্রকল্পের একটি অংশ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইপিও-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থের সিংহভাগ, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ সরাসরি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন জমি কেনা এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ১৫ শতাংশ ব্যবহার করা হবে আগের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে এবং ২ শতাংশ অর্থ আইপিওসংশ্লিষ্ট খরচ বাবদ রাখা হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির একক সম্পদের পরিমাণ ৫১৬৩ কোটি টাকা। বগুড়া, রংপুর ও চট্টগ্রামে ফার্নেস তেলচালিত নিজস্ব ৩৯৩ মেগাওয়াটের সফল বিদ্যুৎকেন্দ্র সামলানোর পর এবার পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি বা সোলার প্যানেলে ব্যবসার বড় বৈচিত্র্য আনতে চলেছে নবগঠিত এই কনসোর্টিয়াম।
আরও পড়ুন
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বগুড়া ও রংপুরের সবুজে ঘেরা বিদ্যুৎকেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানান, দেশে গ্যাসের সংকট শিগগিরই মিটবে না। তাই আরও অনেক দিন বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে তরল জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর ভরসা করতে হবে। তবে বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে কনফিডেন্স পাওয়ারও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে কনফিডেন্স পাওয়ার। এর মধ্যে কক্সবাজার ও বাগেরহাটে ১০০ মেগাওয়াট করে মোট ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে তারা। বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে যৌথ অংশীদার হিসেবে আছে বিদ্যুৎ খাতের আরেক পুরোনো কোম্পানি ডরিন পাওয়ার। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে কনফিডেন্স।
আরও পড়ুন
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে পুঁজিবাজার থেকে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে টাকা তুলতে যাচ্ছে কনফিডেন্স। বিনিয়োগকারীদের সামনে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব তুলে ধরতে গতকাল রোড শোর আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থের ৮৩ শতাংশ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি কেনা ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে খরচ করা হবে। বাকি ১৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ও ২ শতাংশ আইপিওসংশ্লিষ্ট খাতে খরচ করবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে ৩৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে কনফিডেন্স পাওয়ারের। এর মধ্যে ৩৩৯ মেগাওয়াট উত্তরবঙ্গে। এর বাইরে চট্টগ্রামে ৫৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে তাদের।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও বিদ্যুতের চাহিদা-সরবরাহ নিয়ে একটি নিবন্ধ তুলে ধরেন ইমরান করিম। এতে বলা হয়, প্রতিবছর ৬ শতাংশের বেশি হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। উৎপাদনের সক্ষমতা সাড়ে ২৮ হাজার মেগাওয়াট হলেও গ্যাসের অভাবে ৭ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকে।
রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটি মিলে আরও প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে এ খাতে ১৯ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা ব্যবহার করার মতো থাকে, যা জ্বালানির অভাবে সব সময় চালানো যায় না।
ইমরান করিম বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সরকারের মহাপরিকল্পনা আছে। গ্যাস সরবরাহ শিগগিরই বাড়বে না। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেই ভরসা করতে হবে আমাদের। সরকারও সেদিকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার। এর আগে মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এনেছে। সাত বছর ধরে নিয়মিত সরবরাহ করছে।’ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও তারা সাফল্য পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন দরপত্রেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কনফিডেন্স পাওয়ার। বর্তমানের ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতাকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালেই ১ হাজার মেগাওয়াট করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এরপর এটি আরও বাড়িয়ে ২ হাজার মেগাওয়াটে নেওয়ার কথা ভাবছে কোম্পানিটি। ব্যাটারিশিল্পেও বিনিয়োগ আছে কোম্পানিটির। তারা বলছে, দেশের চলমান জ্বালানিসংকটের সমাধান হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন
বন্ধ শিল্প চালুতে ঋণ বিতরণ ৩ শতাংশ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ এএম
একটি বন্ধ কারখানা। ছবি: খবরের কাগজ
-->বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার ১৫টি খাতে (স্কিম) পুনঃঅর্থায়ন ও প্রাক-অর্থায়ন ঋণ বিতরণ হয়েছে পাঁচ মাসে ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা মোট তহবিলের প্রায় ২০ শতাংশ। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে বরাদ্দের ২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতিতে গতি আনতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে। শিল্পোদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদের এই তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার কথা জানানো হয়। এই প্রণোদনার আওতায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ১৫ অক্টোবর হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, এই ৬০ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৫টি স্কিমে ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন অর্থের পরিমাণ মোট ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা যে প্রত্যাশা করেছিলাম সেই গতি নেই। তাই ঋণ বিতরণের গতি বাড়াতে শর্তে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে।’
স্কিমগুলোর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে প্রাক-অর্থায়নে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা, যা বরাদ্দের মাত্র ২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
আরও পড়ুন
উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বিতরণ হয়েছে মাত্র ২৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়নে ৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
চলতি মূলধন জোগাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ৯০৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতকে সহায়তা দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমে বিতরণ হয়েছে ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এই স্কিমে ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্কিমের পুরো অর্থই বিতরণ করা হয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার স্কিম থেকে ঋণ বিতরণ হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। স্টার্টআপ খাতে অর্থায়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্কিমে বিতরণ হয়েছে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ স্কিমে আরও ৫ কোটি টাকা বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে বিতরণ ও প্রক্রিয়াধীন অর্থ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমের পুরো অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইভাবে গ্রিন ফ্যাক্টরি নির্মাণ ও গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিজ খাতের ১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ৫২৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিমুখী খাতের ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে ৯৮ কোটি টাকা বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতের ৩ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে ১ হাজার কোটি টাকা এবং হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানিমুখী খাতে ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে এখনো কোনো অর্থ বিতরণ হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এই প্রণোদনার ঋণ বিতরণে গতি বাড়াতে গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনীতিবিদ ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। সেখানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে–পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পুনরুজ্জীবনের সম্ভাব্যতা, সম্পদ, উৎপাদন সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।
বন্ধ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে খেলাপিকে একমাত্র অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা না করে প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া। খেলাপির তালিকা থেকে নাম মুছতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া। একই গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপির কারণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ না করা। সেই সঙ্গে বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে মামলা প্রত্যাহার/নিষ্পত্তিকে পূর্বশর্ত হিসেবে আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি মো. ফজলুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে কিছু পরামর্শ দিয়েছি। আমরা বলেছি, একটি প্রতিষ্ঠান নানা কারণে বন্ধ হয়। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে খেলাপিকে একমাত্র অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা না করে প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ দেওয়া। খেলাপির তালিকায় নাম একজন ব্যবসায়ীর জন্য খুবই খারাপ। তারা কোথাও ঋণ নিতে পারেন না। ফলে এই তালিকা থেকে নাম মুছতে বিশেষ ব্যবস্থা করতে বলেছি। কোনো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান খেলাপি হতেই পারে। তাই বলে সেই গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ করা উচিত না। আমরা বলেছি এই ব্যবস্থা উঠিয়ে দিতে।’
