নেহা বলেন, আমরা যদি সরকারকে কোনো প্রশ্নই না করি, তাহলে আমরা কার শান্তি বজায় রাখছি?ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করার এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা বলেছেন, তিনি শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারসংবলিত কোনো বন্ডে সই করবেন না। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি এ কথা জানান। এর এক দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশের দেওয়া একটি নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে তার করা আবেদন খারিজ করেন।
ওই নোটিশে নেহা বোরাকে ১০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ডের সঙ্গে একজন জামিনদার দিতে বলা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, তদন্ত চলাকালে তিনি যেন শান্তি বজায় রাখেন।
নোটিশের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেহা বোরা বলেন, আমাকে কার শান্তি বজায় রাখতে বলা হচ্ছে?
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে গত ১৭ অক্টোবর ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ধারায় নোটিশটি জারি করা হয়। এতে তাকে ১৯ অক্টোবর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল—কেন তার কাছ থেকে ১০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও একজন জামিনদার নেওয়া হবে না।
এদিন দিল্লিতে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সংসদীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নেহা বোরা। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় বিক্ষোভ করা গণতান্ত্রিক অধিকার।
সরকারের বিরুদ্ধে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলে ধরাকে কীভাবে শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে দেখা যেতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নেহা বলেন, আমরা যদি সরকারকে কোনো প্রশ্নই না করি, তাহলে আমরা কার শান্তি বজায় রাখছি?ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করার এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রসঙ্গে নেহা বলেন, এই লড়াই যে দিকেই এগোক না কেন, ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারকে শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
গত ১৬ অক্টোবর রাজধানী দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ পদযাত্রা চলাকালে পুলিশ নেহা বোরাকে আটক করে। এর পরদিন, ১৭ অক্টোবর, তাকে শান্তি বজায় রাখার বন্ড দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল।
পুলিশের নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন নেহা। তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে প্রতিরোধমূলক এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার পক্ষে নোটিশে যথেষ্ট যুক্তি তুলে ধরা হয়নি।
নেহা বোরা বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও গণতান্ত্রিক বিরোধিতাকে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। গণতন্ত্রে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি বলেও তিনি জোর দেন।
