নেত্রকোনার আটপাড়ায় কালের কণ্ঠের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি ইবাদ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চুন্নু খানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জুবায়দুল আলম।
অভিযুক্ত চুন্নু খান জেলার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান গ্রামের মৃত হীরা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটপাড়া উপজেলার পোস্ট অফিস রোড এলাকার কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ইবাদ হোসেনসহ ৮-১০টি পরিবারের বাড়ি থেকে প্রধান সড়কে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে পরিবারগুলো ব্যবহার করে আসছে। প্রায় ৭-৮ বছর আগে পরিবারগুলো মিলে এক শতাংশ রাস্তা কিনে নেয়। সম্প্রতি স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আটপাড়া এলজিইডি ওই রাস্তায় ইটের সলিং করে দেয়।
ইটের সলিং নির্মাণের প্রায় এক মাস পর রাস্তার পাশের জমির মালিক শাহীন সুলতানা সুমি রাস্তাটি নিজেদের বলে দাবি করেন। পরে তার চাচাতো ভাই চুন্নু খানসহ স্থানীয় কয়েকজন রাস্তাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে রাস্তা ব্যবহারকারী পরিবারগুলো আদালতের আশ্রয় নিলে আদালত রাস্তাটির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার আরোপের পরও চুন্নু খান স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে কালের কণ্ঠের সাংবাদিকসহ ৮-১০টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে পরিবারগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা চাইলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা খুলে দেন।
ইবাদ হোসেনের অভিযোগ, রাস্তা খুলে দেওয়ার পর থেকেই চুন্নু খান তাকে ফোনে ও সামনাসামনি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে তার ছোট ভাই, যিনি সামরিক বাহিনীতে কর্মরত, তাকে চাকরি থেকে যেকোনো মূল্যে অপসারণ এবং আইএসপিআরে অভিযোগ করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সাংবাদিক ইবাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১৪-১৫ বছর ধরে আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছি। ৭-৮ বছর আগে আমরা রাস্তাটির এক শতাংশ জায়গা কিনেছি। এরপরও রাস্তাটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন আমাকে প্রাণনাশের এবং আমার সামরিক কর্মকর্তা ভাইকে চাকুরি থেকে অপসারণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
আটপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জুবায়দুল আলম বলেন, ৮-১০টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার পর কালের কণ্ঠের সাংবাদিক অভিযোগ করলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। পরে হুমকির ঘটনায় তিনি থানায় একটি জিডি করেছেন। এ বিষয়টিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কেএম
