October 18, 2026, 6:58 am
পলির নিচে ৬৫০০ কোটি টাকা
Reporter Name
- Update Time : Sunday, October 18, 2026
- 9 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর প্রধান বিকল্প হিসেবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে রাবনাবাদ চ্যানেলে এই বন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে তীব্র নাব্যতা সংকটের কারণে এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। নদীর তলদেশে অতিরিক্ত পলি জমে চ্যানেলটির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেখানে বড় আকৃতির বিদেশি বা মাদার ভেসেল চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যে লক্ষ্য নিয়ে বন্দরটি চালু করা হয়েছিল, তা বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে বেলজিয়ামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাবনাবাদ চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু খননকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই হিমালয় ও উজান থেকে নেমে আসা পলির প্রচণ্ড চাপে সেই চ্যানেলের গভীরতা পুনরায় কমে যায়। বন্দর চালুর পর গত এক দশকে এখান থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়েছে, তার চেয়ে তিন গুণের বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে কেবল এই খনন খাতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও পলি জমার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে বিবেচনা না করেই অপরিকল্পিতভাবে এই মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল।
নাব্যতা সংকটের কারণে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমদানি করা কয়লাবাহী বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারছে না। বাধ্য হয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা এসব মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড়ছে এবং সেখান থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে অতিরিক্ত খরচে কয়লা পায়রায় আনা হচ্ছে। দীর্ঘ দূরত্বের এই অতিরিক্ত পরিবহনের ফলে প্রতি টন কয়লা আমদানিতে কয়েক ডলার বেশি খরচ হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রায় চার হাজার ৬০০ কোটি টাকার নতুন একটি মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী কোনো রক্ষণাবেক্ষণের কৌশল নির্ধারণ না করে আবারও বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও নদী বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত ও কম খরচে ছোট পরিসরে ড্রেজিং চালিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে এই নতুন প্রকল্পটির সুফলও বেশি দিন টিকবে না।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


