এক দিনে পাঁচ সেঞ্চুরি, ব্যাটারদের দাপটে রানের পাহাড় আর বল হাতে এক অলরাউন্ডারের অনন্য কীর্তি। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনটি হয়ে থাকল ব্যাটসম্যানদের দখলে। সিলেটে মার্শাল আইয়ুব ছুঁয়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০তম সেঞ্চুরি। তার সতীর্থ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও পেয়েছেন তিন অঙ্কের দেখা। চট্টগ্রামের দুই ব্যাটার সাদিকুর রহমান ও শাহাদাত হোসেনের ব্যাটেও এসেছে শতরান। তবে সবার আলো কেড়ে নিয়েছেন খুলনার মেহেদী হাসান। আগের দিন বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়ার পর আজ ব্যাট হাতে করেছেন সেঞ্চুরি!
মিরপুরে রাজশাহীর বিপক্ষে মেহেদীর পারফরম্যান্স যেন অলরাউন্ডারের সংজ্ঞাটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল। আগের দিন তার ঘূর্ণিতে মাত্র ১১৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল রাজশাহী। সেই ম্যাচেই এবার ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়েছেন খুলনার এই অফ স্পিনার। আট নম্বরে নেমে ১১৮ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় করেছেন ১০৪ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার সপ্তম সেঞ্চুরি!
মেহেদীর এমন কীর্তি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির ম্যাচেও ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার আবারও একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়লেন। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একাধিকবার এমন কীর্তি গড়া চতুর্থ ক্রিকেটার তিনি। এর আগে মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান ও সোহাগ গাজী এই তালিকায় ছিলেন।
মেহেদীর শতকের সঙ্গে খুলনার ইনিংসও পেয়েছে বড় সংগ্রহের ভিত। কালাম সিদ্দিকীর ৯১, ইমরানুজ্জামানের ৫২ ও সামিউন বাশির রাতুলের ৫৭ রানের পর শেষ দিকে মেহেদীর ব্যাটে গতি পায় দল। দিন শেষে ৯ উইকেটে ৪৬৩ রান তুলে খুলনা। রাজশাহীর প্রথম ইনিংসের চেয়ে তাদের লিড এখন ৩৪৪ রান।
সিলেটে অবশ্য আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মার্শাল আইয়ুব। ৮০ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই ব্যাটার ধীরে ধীরে এগিয়েছেন আরেকটি সেঞ্চুরির দিকে। নাসুম আহমেদের বল সুইপ করে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে ১০০ পূর্ণ করেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ৩০তম শতক। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি রয়েছে মাত্র দুজনের।
মার্শালের ইনিংস শেষ হয় ১৭৫ রানে। তবে তার একার ব্যাটিংয়ে নয়, ঢাকার বড় সংগ্রহের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনেরও। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন ৩২০ রানের জুটি, যা জাতীয় ক্রিকেট লিগের ইতিহাসে এই উইকেটে ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ। অঙ্কনের ব্যাট থেকে এসেছে ১০৮ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর পঞ্চম সেঞ্চুরি।
আগের দিন আহত অবসর হয়ে মাঠ ছাড়লেও আজ ব্যাটিংয়ে ফিরে ১৩৭ রান করে আউট হয়েছেন নাঈম শেখ। ফলে এক ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি পেয়েছে ঢাকা। ৮ উইকেটে ৫৪৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে স্বাগতিক সিলেটের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৫৪। অধিনায়ক জাকির হাসান ৪৮ রান করে ফিরেছেন, সৈকত আলী অপরাজিত আছেন ৩১ রানে। ঢাকার চেয়ে এখনো ৩৯৩ রানে পিছিয়ে সিলেট।
অন্যদিকে কক্সবাজারেও চলছে রানের উৎসব। বরিশালের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ৪৭৯ রান তুলে দিন শেষ করেছে চট্টগ্রাম। দলের হয়ে সাদিকুর রহমান করেছেন ১৪৯ রান। আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরি পাওয়া এই ওপেনার আবারও নিজের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। তার সঙ্গে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন শাহাদাত হোসেন। ১০১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন তিনি। এছাড়া মাহমুদুল হাসানের ৫৭ ও পারভেজ হোসেনের ৭৪ রানের ইনিংসও চট্টগ্রামের বড় সংগ্রহে অবদান রেখেছে। বরিশালের চেয়ে ১৯৭ রানে এগিয়ে আছে দলটি।
সিলেটের একাডেমি মাঠে অবশ্য কিছুটা ভিন্ন চিত্র। রংপুরের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে ময়মনসিংহ। প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪২২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল রংপুর। জবাবে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছে ময়মনসিংহ। পিছিয়ে ২৩৯ রানে। খালিদ হাসান ৭২ ও আরিফুল ইসলাম ৪৬ রান করে দ্বিতীয় উইকেটে ৮১ রান যোগ করেছিলেন। তবে আরিফুলের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় দলটি। রংপুরের মুশফিক হাসান ও স্বাধীন ইসলাম নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে তাই এনসিএলের চার ভেন্যুতেই আলোচনায় ব্যাটারদের বড় ইনিংস। কোথাও সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি, কোথাও বড় লিডে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের বিচারে দিনটি আলাদা করে মনে রাখবেন মেহেদী হাসান। এক ম্যাচে ছয় উইকেটের পর সেঞ্চুরি-বল ও ব্যাট, দুই বিভাগেই তার এমন দাপটই দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল গল্প হয়ে থাকল!
