কালবেলা · সাধারণ
জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, সাংবাদিকদের চেয়ারম্যানের হুঁশিয়ারি ‘বেশি বাড়াবাড়ি করিও না’
১৫/১০/২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের দাবি, জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ২৩ থেকে ২৪ কেজি। বিতরণ করা চালের মধ্যে পোকা পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। এ নিয়ে প্রশ্ন করতে গেলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে উত্তেজিত হয়ে হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়া।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে দেখা যায়, ওজন মাপার যন্ত্রে চাল পরিমাপ করে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তবে কয়েকজনকে ২৩ থেকে ২৪ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় বিতরণ করা চালের মধ্যে পোকাও দেখা গেছে। চালের এমন অবস্থা দেখে কয়েকজন জেলে তা নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। ওই দিন ইউনিয়নের ৮০ জন জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে বলেন, তাদের প্রত্যেকের ২৫ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু দেওয়া হচ্ছে কম। এর ওপর চালের মধ্যে পোকা থাকায় তা খাওয়া নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। সরকারি সহায়তা নিতে এসেও চালের পরিমাণ ও মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তাদের।
চাল বিতরণে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিকের দাবি, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই চাল কম দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়া।
চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলামকে সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি থাকাবস্থায় চালে কিছুটা পোকা দেখেছিলাম। এ ছাড়া চেয়ারম্যানেরা যদি সৎ না হন, আমাদের কিছু করার থাকে না।
চাল কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়া বলেন, আমার এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
চালের মধ্যে পোকা থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, পোকাযুক্ত চাল খাদ্যগুদাম থেকে আনা হয়েছে। এত বস্তা চাল খুলে পরীক্ষা করে আনা সম্ভব ছিল না।
এ বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান বলেন, তোমরা বহুত বাইড়া গেছো। একটু কমাইয়া বাইড়ো। আমি এসকান্দার ভূঁইয়া কইলাম, বেশি বাড়াবাড়ি করিও না।
চালের উৎস ও গুণগত মান সম্পর্কে জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রায়হান আল জামানের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পোকাযুক্ত চাল আমার গুদামে থাকলে গুদামের সব চালই নষ্ট হয়ে যেত। এ ছাড়া চালের মধ্যে পোকা থাকার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাকে কিছু জানাননি।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাল বিতরণে অনিয়ম ও চালের মধ্যে পোকা থাকার অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। এমন কিছু হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗