Published on
:
2 min read
২০১০-এর পর ফ্যাশন দুনিয়ায় ধীরে-ধীরে জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল রঙিন পুঁতির মালা বা বিডেড নেকলেস। এক সময়ে স্কুল-কলেজের মেয়েদের গলায়, বন্ধুদের জন্মদিনের উপহারে কিংবা গরমের ছুটিতে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যাওয়ার সময়ে এই নেকলেস ছিল বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলাতে থাকে। স্টেটমেন্ট নেকলেস আর মিনিমালিস্ট অ্যাকসেসরিজ়ের ভিড়ে কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিল ছোট ছোট পুঁতিতে তৈরি এই রঙিন গয়না।
কিন্তু ফ্যাশন তো চক্রাকারে ফিরে আসে! ২০২৬-এ সেই পুরোনো বিডেড নেকলেসই আবার নতুন রূপে ফিরে এল ফ্যাশন দুনিয়ায়। রেট্রো স্টাইল, নস্ট্যালজিয়া আর ব্যক্তিগত ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরির প্রবণতা এই প্রত্যাবর্তনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলল। আগের মতো শুধু সাধারণ রঙিন পুঁতির মালা নয়, এবার তার সঙ্গে যুক্ত হলো বিভিন্ন আকারের পুঁতি, উড ডাস্ট, ঝিনুক, ছোট্ট পেনড্যান্ট এবং নানা রঙের সুতো। ফ্যাশনপ্রেমীরা সাদা টি-শার্ট, ডেনিম জ্যাকেট, অফ-শোল্ডার টপ কিংবা ফ্লোরাল ড্রেসের সঙ্গে এই নেকলেস পরতে শুরু করলেন।
Ei Samay
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যাশন ব্লগারদের স্টাইলিংও এই ট্রেন্ডকে নতুন করে পরিচিতি দিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বোহেমিয়ান লুকের সঙ্গে বিডেড নেকলেস হয়ে উঠল একেবারে মানানসই অ্যাকসেসরি। এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল এর সহজলভ্যতা। দামি গয়নার মতো পকেটে চাপ না ফেলেও নিজের পছন্দমতো রং ও ডিজ়াইন বেছে নেওয়া যেত।
অনেকে আবার নিজেরাই পুঁতি দিয়ে নেকলেস বানিয়ে নেন, যা ফ্যাশনের মধ্যে ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার ছোঁয়া এনে দেয়। আসলে ২০২৬-এ এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি গয়নার ফ্যাশনে ফিরে আসা নয়, বরং পুরোনো স্মৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়ার গল্প। সময় বদলেছে, স্টাইল বদলেছে, কিন্তু রঙিন পুঁতির মালার আকর্ষণ রয়ে গিয়েছে একই রকম। আর তাই ফ্যাশনের এই চক্রে বিডেড নেকলেস আবারও প্রমাণ করল— পুরোনো মানেই সেকেলে নয়, সঠিক সময়ে পুরোনোই হয়ে উঠতে পারে নতুন ট্রেন্ড।
—দেবলীনা ঘোষ
