সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
Copy Link-->প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
রৌমারী উপজেলার চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শোক স্তব্ধ শহিদুল ইসলাম।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার পাঁচ আরোহী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (৩৬), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)।
নিহত অন্য দুজন হলেন, যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪২)। তাদেরও রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপরীতদিক থেকে আসা ধানবোঝাই ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুইজন মারা যায়।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয় কলেজ শিক্ষক একরামুল হক বলেন, শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান তাঁর সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করত। রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তাকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করানোর পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। কিন্তু দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শহিদুল ইসলাম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
দুর্ঘটনায় বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) রাসেল কবির বলেন, এ ঘটনায় ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
