ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাদের আটক করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে দিল্লির মন্দির মার্গ এলাকার এক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাদের হাজির করা হয়। একই ঘটনায় আটক সিজেপির আরেক নেতা অজিঙ্কা শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দলের আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্সে দেওয়া পোস্টে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তোলেন।
দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা আবারও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পরও তারা শর্ত ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ পুলিশের। পুনরাবৃত্ত অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে আদালত তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা ও অজিঙ্কা শিন্ডে পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। সেখানে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং জানান, এর আগে শনিবার দিল্লিতে এক বিক্ষোভের ঘটনায় আটক হওয়ার পর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। সে সময় ৫০ হাজার রুপির বন্ডে তারা মুক্তি পেয়েছিলেন। এবার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রত্না সিং আরও অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার আটক করার পর গভীর রাত পর্যন্ত তিন নেতাকে তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে রাত ৩টার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নেওয়া হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ জানায়, ১৩ অক্টোবর সকালে সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা, অজিঙ্কা শিন্ডে এবং সিজেপির আরও ১১ সদস্য ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে যন্তর মন্তরে পৌঁছান বলে অভিযোগ। পুলিশ বলছে, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের অনুমোদিত স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরও তারা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়। পরে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় মুচলেকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, বারবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা এবং আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে প্রতিরোধমূলক আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদেরও একই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরে তিনজনকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) সামনে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিএনএসএসের ১২৬ ও ১৭০ ধারায় কার্যক্রম শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, জামিনে মুক্তি পেলে তারা আবারও আইন ভঙ্গ করতে পারেন এবং অন্যদেরও তাতে উসকে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা রয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে অজিঙ্কা শিন্ডেকে পাঁচ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদার দিতে বলা হয়। পাশাপাশি ছয় মাস শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার শর্ত দেওয়া হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক আদেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। একই আদেশে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরকে বাদ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলটির বক্তব্য, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নেওয়া হলে জনসমাবেশের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব কমে যাবে।
সূত্র: এনডিটিভি
