এলাকায় মাদক কারবার ও সেবনের প্রতিবাদ করতেন সালমান আকবর। তাকে খুঁজতে গিয়ে তার ছোট ভাই দিলমান আকবরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে একদল মাদক কারবারির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. রিয়াজ উদ্দিনকে চট্টগ্রাম নগর থেকে ধরে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন আহতের স্বজন ও স্থানীয় মাদকবিরোধী বাসিন্দারা।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা সেন্টার এলাকা থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে নগরের কোতোয়ালী থানার লালদীঘি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে তার অবস্থানের খবর পেয়ে তাকে ধরে সাতকানিয়ায় নিয়ে আসেন স্বজনেরা। তবে তাকে ধরে এনে গণপিটুনিরও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা ব্রিজ এলাকায় সালমান আকবরকে খুঁজছিল ধারালো অস্ত্রধারী একটি দল। সালমানকে না পেয়ে তার ছোট ভাই দিলমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তারা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সালমান আকবর প্রবাসী। প্রায় দুই মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি। স্থানীয়ভাবে মাদক কারবার ও উঠতি বয়সী তরুণদের মাদক সেবন দেখে এর প্রতিবাদ করেন এবং এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার করার চেষ্টা চালান বলে তার স্বজনদের দাবি। এ কারণে রিয়াজসহ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ তাদের।
দিলমানের বাবা মুহাম্মদ হারুন বাদী হয়ে এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় রিয়াজ উদ্দিন (৩২) প্রধান আসামি। অন্য দুই আসামি গিয়াস উদ্দিন (৩৫) ও মো. মুজিবুল হক সোহাগ (২২)। ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে ছিলেন।
আহত দিলমানের এক নিকটাত্মীয় জানান, রিয়াজের অবস্থানের খবর পেয়ে তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মহিন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা নগর থেকে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের মৌখিক অনুমতি নিয়ে তারা নগরে গিয়ে রিয়াজকে ধরে সাতকানিয়ায় নিয়ে আসেন।
ওই স্বজনের ভাষ্য, গাড়িতে করে আনার সময় রিয়াজ কয়েকবার চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। জনবহুল এলাকায় চিৎকার করায় লোকজন তাদের অপহরণকারী মনে করছিলেন। পরে তারা ঘটনাটি বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে পথিমধ্যে রিয়াজকে দু-একটি চড়-থাপ্পড় দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
ওই স্বজনের অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল রিয়াজকে অপহরণ করে আনা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে প্রচার চালিয়ে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে রিয়াজের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, নগর থেকে সাতকানিয়ায় নিয়ে আসার সময় রিয়াজ চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে সুইপুরা সেন্টার এলাকায় নিয়ে আসা হয়। চরতী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুর রশিদও ওই এলাকায় রিয়াজকে শোয়া অবস্থায় দেখার কথা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মহিন উদ্দিন বলেন, রিয়াজকে নগর থেকে ধরে আনার বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি। তবে সুইপুরা এলাকায় তাকে ধরে আনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গ্রেপ্তার করে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, রিয়াজকে নগর থেকে ধরে আনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আটকের ঘটনা যেহেতু নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ওই থানা নিতে পারে।
কোতোয়ালী থানার ওসি মো. জাহেদুল কবির বলেন, এক যুবককে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে জানা যায়, একটি মামলার আসামিকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে করে সাতকানিয়ায় নিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে সাতকানিয়া থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
The post মাদকবিরোধী প্রতিবাদের জেরে যুবককে কুপিয়ে পলাতক, আসামি ধরতে পুলিশের অনীহা, ধরে দিলেন স্বজনেরা appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
