সংবাদ · সাধারণ
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিন
২২/১০/২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৩২ জন। মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বাসটির চালক ও সহকারী পেছনে গিয়ে বসার পর সুপারভাইজার বাস চালাচ্ছিলেন।সড়ক দুর্ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে ৭২ হাজার ৭৩৬টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। এসব সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ। আহত ব্যক্তিদের অনেকে দীর্ঘদিন শারীরিক ও আর্থিক দুর্ভোগের শিকার হন।সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অবহেলা এবং সড়কের নির্মাণগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। চালকের লাইসেন্স ও যানবাহনের ফিটনেস যাচাইয়ে দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পরিবহন খাতে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও জবাবদিহির অভাবও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে বাধা সৃষ্টি করে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন।সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলছে। নিরাপদে রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা, চালকদের সতর্কতা এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নৌপথ ও রেলপথের ব্যবহার বাড়িয়ে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে হবে। পরিকল্পিত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।পাশাপাশি চালকের যোগ্যতা যাচাই, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং আইন প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না। দুর্ঘটনার পর তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে দায়িত্ব সারলে চলবে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি থাকা জরুরি। সড়কে মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗