বছরে ১ হাজার কোটি টাকা খরচ
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাদের খরচ কমানো এবং সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রায় ৪০ হাজার কর্মী, ৯ হাজার ৮৪৮টি ডাকঘর এবং প্রায় ৪৩৯ একর জমি নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসেবা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে ডাক অধিদপ্তর। তবে এই বিশাল অবকাঠামো সত্ত্বেও পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় সংস্থাটির আয় একেবারেই নগণ্য।
২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ডাক বিভাগের মোট ব্যয় হয়েছে ৫,০১৮ কোটি টাকা, বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ১,৪৫২ কোটি টাকা—যার ফলে পুঞ্জীভূত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩,৫৬৬ কোটি টাকা। শুধু ২০২৫ অর্থবছরেই সরকার খরচ করেছে ১,০৩৯ কোটি টাকা, যেখানে আয় ছিল মাত্র ২৫২ কোটি টাকা।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল কী
এই মডেলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা নিজ বিনিয়োগে ডাক বিভাগের নাম ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এলাকায় চিঠিপত্র ও পার্সেল বুকিং, সংগ্রহ এবং বিতরণের দায়িত্ব পালন করবেন।
চিরাচরিত চিঠিপত্রের ব্যবহার কমে যাওয়ায় ডাক বিভাগকে এখন ই-কমার্স ও পার্সেল পরিবহনের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। সারা দেশে ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক ফ্র্যাঞ্চাইজির পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও আলাদা উদ্যোগে কাজ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে, যাকে 'লেটার রাইটার' মডেল বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের "ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মডেল" বর্তমানে পাইলট প্রকল্প (Pilot Basis) হিসেবে চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১২টি এলাকায় (ঢাকা, রাজশাহী, খুলনাসহ অন্যান্য অঞ্চল) এই উদ্যোগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে ৫,০০০-এর বেশি আউটলেটে সম্প্রসারণ করা হবে।
১. আবেদনের ধরন ও যোগ্যতা
এই মডেলটিতে প্রধানত দুই উপায়ে যুক্ত হওয়া যাবে:
- প্রাতিষ্ঠানিক ফ্র্যাঞ্চাইজি: কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ই-commerce লজিস্টিক এজেন্সি ডাক বিভাগের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট এলাকার পার্সেল বুকিং, সংগ্রহ ও বিতরণের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব নিতে পারবে。
- ব্যক্তিগত ‘লেটার রাইটার’ মডিউল: ব্যক্তি পর্যায়ে স্বাধীন উদ্যোগ বা কোনো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নিজের এলাকায় ডাকসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২. আবেদন করার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া
ডাক বিভাগের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
- অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি: ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কিংবা বাংলাদেশ ডাক বিভাগের প্রধান কার্যালয় বা সার্কেল অফিসগুলো থেকে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক উদ্যোক্তা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
- আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা: প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সার্কেল অফিস বা ডাক বিভাগের নির্ধারিত লজিস্টিক উইং থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে বা তাদের নির্দেশিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে।
- প্রয়োজনীয় নথিপত্র: সাধারণত আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ট্রেড লাইসেন্স (প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে), প্রস্তাবিত আউটলেট বা সেন্টারের লোকেশন বা ঠিকানার বিবরণ এবং আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণপত্র বা ব্যাংক গ্যারান্টির প্রয়োজন হতে পারে।
৩. কাজের পরিধি ও সুযোগ
যাঁরা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি পাবেন, তাঁরা মূলত ফ্রন্ট-এন্ড অপারেশনের (গ্রাহক সেবা) দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা নিজ খরচে বা বিনিয়োগে আউটলেট পরিচালনা করবেন এবং ডাক বিভাগ তাঁদের মূল নেটওয়ার্ক ও ব্যাক-এন্ড লজিস্টিক সহায়তা (পরিবহন ও ফুলফিলমেন্ট সেন্টার) প্রদান করবে।
