রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। একই সময়ে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ভুল করে ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা জারি করে। পরে প্রকৃত ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৯ বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্র ছিল দেশটির সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
রাশিয়ায় ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা নেই
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্রও জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
তবে ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, কিংবা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাপানে ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ভুল সতর্কতা
অন্যদিকে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুল করে ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা জারি করে। দেশটির বড় একটি অংশে তীব্র ভূকম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
তবে বিএএনও নিউজের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। ফলে সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা ৯.৯ মাত্রার পূর্বাভাসের সঙ্গে প্রকৃত মাত্রার বড় পার্থক্য দেখা যায়।
সতর্কবার্তাটি সঠিক হলে এটি হতো যন্ত্রের সাহায্যে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের চেয়েও বড় ঘটনা। কারণ, এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছিল ১৯৬০ সালে চিলির ভালদিভিয়া অঞ্চলে। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯.৫।
কেন ভূমিকম্পপ্রবণ কামচাটকা অঞ্চল?
রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত টেকটোনিক বলয়ের অংশ। এই বলয় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার জন্য পরিচিত।
প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে বিস্তৃত এই অঞ্চলে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক নড়াচড়ার কারণে প্রায়ই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। কামচাটকাও বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
গত বছরের জুলাইয়ে কামচাটকার উপকূলের কাছে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির ঢেউ উপকূলীয় একটি গ্রামের একাংশ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে সুনামির আশঙ্কা না থাকলেও ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ।
The post রাশিয়ায় ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জাপানে ভুল সতর্কতায় ৯.৯ মাত্রার পূর্বাভাস appeared first on SATV.
