বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে টমাস আলভা এডিসন এক অবিস্মরণীয় নাম। বৈদ্যুতিক বাতি, শব্দ ধারণ ও পুনরুৎপাদনের যন্ত্রসহ নানা উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি আধুনিক সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার নিরলস গবেষণা, অসীম ধৈর্য ও উদ্ভাবনী চিন্তা পৃথিবীকে নতুনভাবে আলোকিত করেছে। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এই প্রখ্যাত মার্কিন উদ্ভাবককে।
টমাস আলভা এডিসন ১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের মিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। মাত্র কয়েক মাস বিদ্যালয়ে পড়ার পর তার মা ন্যান্সি ম্যাথিউস এডিসন বাড়িতেই তাকে শিক্ষা দিতে শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও বিভিন্ন যন্ত্রের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। কৈশোরে রেলগাড়িতে সংবাদপত্র বিক্রির পাশাপাশি তিনি নানা বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। প্রতিকূলতা তার অনুসন্ধিৎসাকে দমাতে পারেনি; বরং নতুন কিছু আবিষ্কারের আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এডিসনের উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে ফোনোগ্রাফ, উন্নত বৈদ্যুতিক বাতি এবং চলচ্চিত্র ধারণ ও প্রদর্শনের প্রাথমিক প্রযুক্তির বিকাশ। ১৮৭৭ সালে উদ্ভাবিত ফোনোগ্রাফ তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি ব্যবহারোপযোগী বৈদ্যুতিক আলোকব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৮৭৯ সালে তার প্রদর্শিত উন্নত বৈদ্যুতিক বাতি বিদ্যুতের আলোকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারের পথ সুগম করে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের ব্যাবহারিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার অবদান স্মরণীয়।
এডিসনের জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো অধ্যবসায় ও ব্যর্থতাকে জয় করার মানসিকতা। অসংখ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাধা অতিক্রম করে তিনি উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে গেছেন। তার সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত প্রতিভার ফল নয়; গবেষণাগারে সহকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৯৩১ সালের ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট অরেঞ্জে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এডিসন। তার প্রয়াণ ঘটলেও উদ্ভাবন, গবেষণা ও কর্মনিষ্ঠার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।