নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রথম ঝলক প্রকাশের পর আলোচনায় এসেছে চরিত্রগুলোর পোশাক ও গয়না। রাম, রাবণ থেকে শুরু করে অন্যান্য চরিত্রের অলংকারেও রয়েছে বিশেষ নকশা। এসব গয়না তৈরি করতে ১৮ মাস সময় নিয়েছে ভারতের গয়না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আম্রাপালি জুয়েলসের দল ট্রাইব আম্রাপালি। সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ৪ হাজারের বেশি অলংকার।
দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গয়না তৈরির পুরো কাজের নেতৃত্বে ছিলেন আম্রাপালি জুয়েলসের প্রধান নির্বাহী ও সৃজনশীল পরিচালক তারং অরোরা।
কাজটি সহজ ছিল না। কারণ, সিনেমার প্রতিটি চরিত্রের জন্য আলাদা নকশার গয়না তৈরি করতে হয়েছে। এ জন্য ভারতের পুরোনো গয়নার নকশা, ভাস্কর্য, বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য ও আম্রাপালি জাদুঘরের সংগ্রহশালা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন নির্মাতারা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, গয়নাগুলো দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি চরিত্রের সঙ্গে মানানসই করা।
যেমন, অযোধ্যার রাজপুত্র রামের গয়না আর বনবাসে থাকা রামের গয়না এক রকম নয়। রাজকীয় পরিবেশে তাঁর সাজে যে অলংকার থাকবে, বনবাসের সময় তা কমিয়ে আনতে হয়েছে। একইভাবে যোদ্ধা ও রাজদরবারের মানুষের সাজেও পার্থক্য রাখা হয়েছে।
সীতার গয়নাও সিনেমার গল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাঁকে অপহরণের সময় যে অলংকারগুলো পড়ে যায়, সেগুলোও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোন দৃশ্যে কোন গয়না ব্যবহার করা হবে, তা খুব সতর্কভাবে ঠিক করতে হয়েছে।
রাবণের গয়না তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর চরিত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ক্ষমতা, রাজকীয় ভাব এবং দেবতা শিবের প্রতি ভক্তির বিষয়টি অলংকারের নকশায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। পাশাপাশি লঙ্কার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরতে হয়েছে।
দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে তারং অরোরা বলেন, এর আগে ‘বাহুবলী’, ‘মণিকর্ণিকা’ ও ‘তুম্বাড়’-এর মতো সিনেমার জন্য গয়না তৈরি করেছে তাঁদের প্রতিষ্ঠান। তবে ‘রামায়ণ’-এর কাজ আলাদা। কারণ, এখানে শুধু একটি বা দুটি চরিত্র নয়, প্রায় সব চরিত্রের জন্যই গয়না তৈরি করতে হয়েছে।
তাঁর মতে, রাম, কৃষ্ণ কিংবা যুধিষ্ঠিরের মতো পৌরাণিক চরিত্র সম্পর্কে দর্শকের আগে থেকেই ধারণা রয়েছে। সেই পরিচিত রূপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুনভাবে চরিত্রগুলোকে পর্দায় তুলে ধরাই ছিল তাঁদের বড় চ্যালেঞ্জ।
