অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ বৈশ্বিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল অর্থনীতিতে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘হালাল অর্থনীতি ৩৬০: বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, “বর্তমানে অধিকাংশ হালাল পণ্য উৎপাদন হচ্ছে অমুসলিম দেশগুলোতে, অথচ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সামনে এই খাতে বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত।”
তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে হালাল শিল্পের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ করছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সহায়তা প্রদানও করা হচ্ছে। সেমিনারে আশিক চৌধুরী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সার্টিফিকেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
বিএমসিসিআই সভাপতি সাব্বির এ খান বলেন, “পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে হালাল অর্থনীতি আমাদের জন্য একটি টেকসই বিকল্প হতে পারে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, একমাত্র মালয়েশিয়া বাজারেই ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল খাদ্য বাজারের পরিসর যেখানে ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে, তা ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহ্দ শুহাদা ওসমান হালাল সার্টিফিকেশন, মান নিয়ন্ত্রণ ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার, যা হালাল খাতের মাধ্যমে অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোমিনুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি। তিনি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক চিত্র ও বাংলাদেশের করণীয় কৌশলগুলো তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর। প্যানেল আলোচনায় হালাল পণ্য উৎপাদক, সার্টিফায়ার ও সরবরাহ চেইন বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানে হালাল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
