মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম শুক্রবার সকালে ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে—যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। এর আগে বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর ৩ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলার ১ সেন্টে পৌঁছেছিল।
তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তবে তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলদেশের ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাত হানবে। এই ঘোষণার পরপরই তেলের দাম বেড়ে যায়।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারঅ্যাক্টিভ ইনভেস্টর’-এর রিচার্ড হান্টার বলেন, “এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার পরিবর্তে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছে। যে সংঘাতটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে অনেকে ধারণা করা হয়েছিল, তা এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে—আর এই পরিস্থিতির কারণেই তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।”
ফেব্রুয়ারি মাসে—ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে—প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার, কিন্তু এপ্রিলের শেষ নাগাদ তা বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছায়।
এই অঞ্চলে উত্তেজনা চলতি সপ্তাহে আরো বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর দাবি করেছে, বুধবার তারা হরমুজ প্রণালীতে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থানরত কিছু কূটনীতিক এবং মার্কিন সরকারি কর্মীদের পরিবারকে দেশটি ছেড়ে চলে আসার নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার শিকার হচ্ছে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েলথ ক্লাব’-এর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার জানিয়েছেন, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন নির্বাচনের পর ইরান ও ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছে।
