ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হারের পর টিম ইন্ডিয়ার বোলিংয়ের ‘কঙ্কালসার’ অবস্থাটা ফের একবার চোখের সামনে। ফ্ল্যাট পিচে ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের ‘ঝড়’ থামাতে ব্যর্থ অর্শদীপ সিং, ময়ঙ্ক যাদবরা। অথচ একই পিচে বল হাতে দাপট দেখিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন কিমো পল। এমন পরিস্থিতিতে পিচকে দোষ দিতে নারাজ সুনীল গাভাসকর। তাঁর সাফ কথা, বোলাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে না পারলে উইকেটকে কাঠগড়ায় তুলে কোনও লাভ নেই।
ম্যাচের শেষে ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খোলেন গাভাসকর। তাঁর মতে, তিলক বর্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডির জুটি যখন রান তুলছিল, তখন ক্যারিবিয়ান বোলাররাও বেশ কিছু ভুল করেছিলেন। অতিরিক্ত ফুলটস করে ভারতীয় ব্যাটারদের হাত খুলে খেলার সুযোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরে লেংথে পরিবর্তন এনে এবং নিখুঁত ইয়র্কার ব্যবহার করে ম্যাচে ফিরে আসেন উইন্ডিজ বোলাররা। ভারতীয় বোলাররা সেই কৌশল কাজে লাগাতে পারেননি বলেই তাঁদের ভুগতে হয়েছে।
গাভাসকরের কথায়, পিচ থেকে সাহায্য পেতে হলে বোলারদের সঠিক জায়গায় বল ফেলতে হবে। ফুলটস কিংবা ব্যাটারের নাগালের মধ্যে পড়া বল যে কোনও উইকেটেই রান তোলার সুযোগ করে দেয়। তাই বোলিংয়ের ভুল ঢাকতে পিচের অজুহাত খাড়া করায় আপত্তি তাঁর। গাভাসকর বলেন, “তিলক ও নীতীশ যখন জুটি বেঁধে দ্রুত রান তুলছিল, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররাও বেশ কয়েকটি ভুল করেছিলেন। তাঁরা অনেক বেশি ফুলটস বল করেছিলেন। আমরা প্রায়ই পিচ নিয়ে আলোচনা করি। বোলাররা উইকেট থেকে কোনও সাহায্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু ফুলটস বল করে রান দিলে তার জন্য পিচকে দোষারোপ করে কোনও লাভ নেই।”
চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপের সেঞ্চুরির পাশাপাশি রান পান রাদারফোর্ড ও হেটমেয়েরও। ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ের দাপটে ভারতীয় বোলিংয়ের দুর্বলতা আরও একবার সামনে চলে আসে। মায়াঙ্ক যাদব ও অর্শদীপ সিং দু’জনেই ৫২ রান করে খরচ করেন। তাঁদের তুলনায় কিছুটা ভালো পারফরম্যান্স প্রিন্স যাদবের। চার ওভারে ৩৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। এদিকে, হায়দরাবাদের নতুন পিচে বোলারদের জন্য সামান্য সাহায্য ছিল বলেই জানিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। তাঁদের দাবি, মাঝেমধ্যে বল পিচে থমকে যাচ্ছিল। বাউন্সেরও তারতম্য চোখে পড়েছিল। ফলে পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করার সুযোগ ছিল ভারতীয় পেসারদের সামনে। কিন্তু সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি তাঁরা। এই আবহে ভারতীয় দলের বোলিং নিয়ে চাঁচাছোলা মন্তব্য সানির।
