মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর, শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত এই জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে মুক্তারপুর, মুন্সীগঞ্জ শহর, মুন্সীরহাট ও রমজান বেগসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দোকানের সামনে খালি সিলিন্ডার রেখে সরবরাহ নেই বলে জানালেও অতিরিক্ত দাম দিতে চাইলে গ্যাস সরবরাহ করছেন। স্থানীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় বাজারে কোথাও কোথাও এই সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় ক্রেতাদের কয়েক শ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কথা বলে কোনো কোনো বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম দাবি করছেন। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া না যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। এতে মাসিক সংসার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এর আগেও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। তবে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ডিলার ও পরিবেশক পর্যায়েও সরবরাহ ও মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভোক্তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
