বলিউড ইন্ডাস্ট্রির মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর এবং ভাইজান খ্যাত সুপারস্টার সলমন খান মাঝেমধ্যেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক স্মৃতির রোমন্থন করে অনুরাগীদের চমকে দেন। জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো বিগ বস-এর মঞ্চে শনিবার এক বিশেষ পর্বে নিজের বাবা কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের জীবনের এক অজানা অধ্যায় সকলের সামনে উন্মোচন করেন এই অভিনেতা। সলমন জানান, কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁদের পরিবারে নানা চড়াই-উতরাই ও আবেগের গল্প লুকিয়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানের সেই আবেগঘন মুহূর্তে সলমন খান খোলামেলাভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি সম্প্রতি নিজের বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। অতীতে কখনো বাবাকে হতাশ করে থাকলে কিংবা কোনো ভুল কথা বলে থাকলে তার জন্য অনুতপ্ত হন তিনি। এই প্রসঙ্গের সূত্র ধরেই তিনি তাঁর পিতামহের অমত সত্ত্বেও সেলিম খান ও সালমার সেই রোমাঞ্চকর বিবাহিত জীবনের পেছনের গল্প দর্শকদের শোনান, যা শুনে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক ও অনুরাগীরা।
সলমন খান স্মৃতির পাতা উল্টে জানান, ১৯৬৪ সালে যখন সেলিম খান ও সুশীলা চরাক (যিনি বিয়ের পর সালমা নাম গ্রহণ করেন) একে অপরের প্রেমে পড়েন এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন সালমার বাবা অর্থাৎ সলমনের দাদু এই বিয়েতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে এই আপত্তির পেছনে কোনো ধর্মীয় কারণ ছিল না, বরং দাদুর আশঙ্কা ছিল চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত কাউকে বিয়ে করলে তাঁর মেয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন। সুদর্শন এবং বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে কেরিয়ার গড়তে চাওয়া সেলিম খানের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। এমনকি দাদু এতটাই নাখোশ ছিলেন যে, জামাই সেলিম খানের সঙ্গে টানা পাঁচ বছর কোনো কথাই বলেননি।
পরিবারের সেই জটিল সম্পর্কের বরফ গলতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। ভাইজান অত্যন্ত নস্টালজিক হয়ে জানান, সলমনের ছোট ভাই সোহেল খানের জন্মের সময় দাদু প্রথম তাঁদের বাড়িতে মিষ্টি হাতে আসেন এবং সেলিম খানের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলান। তবে প্রথম দিকে মেনে না নিলেও পরবর্তী সময়ে দাদু ভীষণ আফসোস করতেন যে তিনি চাইলে আরও আগে এই সুন্দর পরিবারটিকে আপন করে নিতে পারতেন। এছাড়া পিতামাতার দাম্পত্য কলহ নিয়ে বলতে গিয়ে সলমন জানান, সালমা খান কখনো রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যেতে চাইলে দাদু কখনোই তা প্রশ্রয় দিতেন না। বরং তিনি সবসময় মেয়েকে বুঝিয়ে স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার পাঠ পড়াতেন, যা তাঁদের পারিবারিক মূল্যবোধের এক অনন্য দিক ফুটিয়ে তোলে।
