মায়ের আগমনে দেখতে দেখতে শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গা পুজো। আজ দেবীপক্ষের তৃতীয়া। মা দুর্গার আগমনে গোটা শহর সেজে উঠেছে আলোর মালায়। এখন থেকেই শহর জুড়ে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে বিপুল জনসমাগম। পুজোর দিনে বিশেষ করে বাড়ির পুজোয় আমজনতা হোক কিংবা বিনোদন জগতের তারকা সকলেই হয়ে ওঠেন একেবারে ঘরের মানুষ।
যাদের বাড়িতে পুজো হয় তাঁদের দায়িত্ব আরও বেশি থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রত্যেক বনেদী বাড়ির পুজোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে কোনো না অজানা ইতিহাস। যা কালের নিয়মে ধীরে ধীরে রহস্যে পরিণত হয়।
বাড়ির দুর্গাপুজো নিয়ে অনেক পুরনো স্মৃতি রয়েছে অভিনেতা ভাষার চট্টোপাধ্যায়েরও। ছোটবেলায় সন্ধি পুজোর সময় ঘটে যাওয়া এমনই এক অদ্ভুত ঘটনার কথা সম্প্রতি স্যোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন তিনি। সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে ভাবিয়ে তোলে ঠিকই কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা তিনি পাননি।
ঠিক কি ঘটেছিল?
ফেসবুকের পাতায় ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'শুনলাম এবার সন্ধি পুজো অনেক সকালে পড়েছে,সাতটায় যতদূর শুনলাম। আর শোনার পরেই মনে পড়ে গেল একবারের কথা...অনেকদিন আগে একটা interview তে বলেছিলাম। সেদিন ও সন্ধিপুজো সকালে ছিল।
https://youtu.be/TTaC77AoBTQ?si=krnRrCB20nqguKbt
রাত থাকতে বাড়ির সকলে উঠে পড়ে কাজে লেগে গেছিল। আমি তখন ক্লাস সিক্স কি সেভেন। তাই বলে ছাড় নেই। আমাকেও বেশ কিছু কাজের ভার দেওয়া হত।সকলের মত আমিও উঠে স্নান সেরে মন্দিরে এসছি। সঙ্গে বাবা আছে। বাকিরা সবাই ভেতরে,কাজে ব্যস্ত। বাইরে তখনও আলো ফোটেনি, লেট october পুজো ছিল। দেখলাম সদর দরজা দিয়ে তিনজন মহিলা এলেন। খালি গায়ে আটপৌরে শাড়ি,মাথায় সিঁদুর। একজনের হাতে ঘটি,একজনের ফুল,আরেকজনের হাতে গোবর। ওনারা এলেন,আমার বা বাবার দিকে তাকালেন না। মন্দিরে ওঠার সিঁড়িতে গোবর নিকিয়ে,জল ঢেলে,ফুল ছড়িয়ে দিলেন । তারপর তিনজনে চলে গেলেন।
সদর সরজা পেরোতেই বাবা বলল এখনও আলো ফোটেনি দেখ ওরা অন্ধকারে যেতে পারছে কিনা,নাহলে টর্চ দেখাবি...আমি তখনই গেলাম,দু সেকেন্ড হয়নি। মন্দির থেকে বাইরের গেট অনেকটা যেতে হয়। দেখলাম কেউ কোথাও নেই। বাবাকে ডাকলাম,বললাম গেল কোথায়? কেউ নেই তো!
বাবা আমার মতোই হতবাক। এঁরা করা যারা এলেন? যার সাক্ষী থাকলাম শুধু দুজনে...ঘটনাটা আজও আমাদের ভাবায়।' (লেখা অপরিবর্তিত)
