কিশোরগঞ্জের নিকলীতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মার্কেটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। এ সময় একটি আইনজীবী চেম্বার ও বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
গত রোববার রাতে উপজেলার বানিয়াহাটি এলাকায় অবস্থিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠুর মালিকানাধীন সাবেক তিন (৩) বারের সংসদ সদস্য আমিন উদ্দিন মার্কেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার মার্কেটের দোতলায় বেশ কয়েকটি সরকারি-আধাসরকারি ব্যাংক রয়েছে। এ ছাড়া মার্কেটে স্থানীয়দের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আইনজীবীর চেম্বার রয়েছে।
মার্কেটের তত্ত্বাবধায়ক নয়ন তালুকদার বাদী হয়ে গতকাল সোমবার নিকলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে টিক্কলহাটি গ্রামের অনিক (২০), মীরহাটি গ্রামের রাফি (২১), দোয়ারহাটি গ্রামের সালমান (২২), ধোপাহাটি গ্রামের উদয় (২০), সাদ্দাম (২০), নয়ন (২২) এবং গোয়ালহাটি গ্রামের মামুনসহ (২১) অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তারা রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মার্কেটে এবং অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদের চেম্বারে অতর্কিত হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মার্কেটের মালিক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু জানান, ঘটনার দিন তিনি একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে হামলার খবর পান। ঘটনার সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ ইতোমধ্যে কিশোর গ্যাংদের শনাক্ত করেছে।
নিকলী থানার ওসি ইশতিয়াক আহমেদ জানান, বানিয়াহাটি গ্রামের আল আমিন ও ধোপাহাটি গ্রামের সালমানের মধ্যে আগে থেকে ঝামেলা জের ধরেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর করে। তবে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে নয়, আকস্মিক উত্তেজনার বশে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত অনিক ও রাফিকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
