অতিরিক্ত কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা আর ব্যস্ত রুটিনের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারা বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ সমস্যা। ঘুম না আসার এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ক্যাফেইন কমানো কিংবা ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম সীমিত করার মতো নানা কৌশল তো আমরা অনেকেই জানি। তবে এর পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার রাখা যায়, যা সরাসরি আপনার ঘুম ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বাদাম খাওয়া দ্রুত ঘুম আনতে এবং ঘুমের সামগ্রিক মান উন্নত করতে দারুণ কার্যকরী।
শৈশবে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য ভারতীয় উপমহাদেশের মায়েদের তাদের সন্তানদের দুধের সঙ্গে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাদাম কীভাবে আমাদের ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন’ জার্নালে প্রকাশিত জুলাই ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ২১ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ১৭৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর বাদামের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছিলেন, তাদের প্রতিদিন ৬০ গ্রাম করে বাদাম দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, তুলনা করার জন্য অন্য একটি দলকে ক্যালোরি ঠিক রেখে চিড়া, খাকরা বা ক্র্যাকারের মতো সাধারণ নাস্তা দেওয়া হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যে দলটি নিয়মিত বাদাম খেয়েছিল, তারা অন্যদের তুলনায় অনেক দ্রুত ঘুমাতে পেরেছে এবং তাদের ঘুমের স্থায়িত্বও বেশি ছিল। এর ফলে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসে এবং নিরবচ্ছিন্ন গভীর ঘুম নিশ্চিত হয়।
বাদাম কেন ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে?
পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শীলা কৃষ্ণস্বামীর মতে, বাদামে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই যেমন-
ম্যাগনেসিয়াম: এটি আমাদের স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ট্রিপটোফ্যান: এই উপাদানটি শরীরকে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে।
প্রাকৃতিক মেলাটোনিন: বাদামে প্রাকৃতিকভাবেই সামান্য পরিমাণে মেলাটোনিন হরমোন থাকে, যা শরীরের ঘুম ও জাগার চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
ভালো ঘুমের জন্য আর যা করা প্রয়োজন
শুধু নিয়ম করে বাদাম খেলেই যে রাতে চমৎকার ঘুম হবে, বিষয়টি এমন নয়। এটিকে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার রুটিনের অংশ করে তুলতে হবে। ভালো ঘুমের জন্য বিশেষজ্ঞরা নিচের বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:
সন্ধ্যার পর চা, কফি বা যেকোনো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার করুন।
শোবার ঘরটি আরামদায়ক, শান্ত ও ঘুমের উপযোগী রাখুন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস