সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পায়রা, মেঘনা ও যমুনা নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব। অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে ইলিশ ধরা। অসাধু জেলেরা অভিযানের ফাঁকে ইলিশ ধরা অব্যাহত রেখেছেন।
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের নজরদারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পায়রা নদীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। নিষিদ্ধ সময়েও প্রতিদিন অবাধে ইলিশ শিকার করছেন একশ্রেণির অসাধু জেলে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পায়রা নদীর পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী ও আঙ্গারিয়া এলাকায় এবং মুরাদিয়া, লোহালিয়া ও পাণ্ডব নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে এই অবৈধ মাছ শিকার। নদীতে মাছ ধরার ট্রলারগুলোয় অত্যাধুনিক ফাইটার ইঞ্জিন লাগিয়ে বেপরোয়াভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলেরা। রোববার দুপুরে উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় ৩০-৩৫টি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে জেলেরা নির্বিঘ্নে নদীতে জাল পেতে মা ইলিশ শিকার করছেন। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘আমাদের টহল টিম একটু আগেই ওই এলাকা থেকে ঘুরে এসেছে। আমাদের লোকবল ও একটিমাত্র টহল টিম থাকায় সব জায়গায় সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে আমরা টহল টিম বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
বিজ্ঞাপন
তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের প্রস্তুতিকালে ভোলার তজুমদ্দিনের মেঘনায় তিন জেলেকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃত জেলেরা হলেন মো. কবির, মো. সলেমান ও মো. শাহীন। তাদের বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ মির্জাকালুর হাশেম নগর এলাকায়। তজুমদ্দিন মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাতে মা ইলিশ শিকারের গোপন সংবাদ পেয়ে তজুমদ্দিনের চৌমুহনী ঘাট এলাকার মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মা ইলিশ শিকারের প্রস্তুতির সময়ে তিন জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি দাঁড়ির নৌকা ও এক হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আমির হোসেন জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন পর্যন্ত ইলিশ প্রজনন এলাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মা ইলিশ রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করে তিন জেলেকে আটক করে সাজা দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া হোসেন্দী ইউনিয়ন ইছমানিচর এলাকায় মেঘনা নদীতে অবাধে চলছে ইলিশ মাছ শিকার। রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে চলছে ইলিশ মাছ শিকার, সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে অসাধু জেলেরা মাছ শিকার করছে। এ বিষয়ে জানতে গজারিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সালাম মিয়া বলেন, আমরা অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের কিছুই করার নেই, অসাধু জেলেরা অন্যায়ভাবে ইলিশ মাছ শিকার করছে।
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নদী থেকে প্রায় ছয় হাজার মিটার নিষিদ্ধ অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। রোববার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খাতুন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদারের নেতৃত্বে উপজেলা মৎস্য অফিসের সহকারী শৈলেন ঘরামী, ক্ষেত্র সহকারী বিকাশ বাবু এবং উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ ছিল। ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি সুরক্ষায় নদীপথে এ ধরনের অভিযান ও মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে।
