মাগুরা শহরের একটি বাস কাউন্টারে পড়ে থাকা যুবদল নেতার লাশের ময়নাতদন্তে মাথায় গুলি পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার ভোর ৬টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ‘রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার’ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
নিহত মো. সাকের হোসেন শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার প্রয়াত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মৃতদেহের মাথায় একটি গুলি পাওয়ার কথা বলেছেন মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার মামুনুর রশিদ।
ময়নাতদন্তের পর বিকালে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “সাকেরের মাথায় একটি গুলি পাওয়া গেছে। তবে গুলিটি কোন অস্ত্র থেকে করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
“গুলিটি পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। ব্যালিস্টিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চত হওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।”
গুলি পরীক্ষা ও অন্য আলমত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
খবর পেয়ে দুপুরে সদর হাসপাতালে সাকেরকে দেখতে গিয়ে সংসদ সদস্য মনোয়ার খান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা কিলিং মিশন হতে পারে।
সাকের হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি
স্বজনরা জানান, ময়নাতদন্তর পর বিকালে সাকেরের লাশ হস্তান্তর করা হলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে চলছে স্বজনদের আহাজারি ও শোকের মাতম; লাশ দেখে তা আরও বেড়ে যায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা সাকের হত্যার বিচার দাবি করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, অনেক আগে সাকেরের বাবা কুতুব উদ্দিনের সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাকের ছিল সবার ছোট। তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
সাকেরের বড় ভাই রাজমীর হোসেন বলেন, “আমরা ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দেখতে চাই। তার কোনো শত্রু ছিল না। বাস টার্মিনালে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত থেকে জীবন-যাপন করত সাকের। তবে ১৭ বছরে তার নামে ১০টি রাজনৈতিক মামলা ছিল।”
সাকের সাদামাঠা জীবনযাপন করতেন জানিয়েছে তার শ্বশুর আব্দুল আজিজ বলেন, “আমার ছেলে না থাকায় সাকেরকে ছেলের মত ভাবতাম। এই হত্যাকাণ্ডে জাড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
খবর পেয়ে তাকে দেখতে গিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “এটি খুবই উদ্বেগজনক সহিংসতা। বহুদিন মাগুরা শহর কেন্দ্রিক গুলি করে কোনো হত্যার ঘটনা ঘটেনি। আমি প্রশাসনকে বলতে চাই, দ্রুত খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করুণ।”
এদিন ভোরে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকেরকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকেরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্র পাওয়া গেলেও সেটি গুলির কি-না প্রথমে তা বলতে পারেননি চিকিৎসক।
