ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ৪
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল ও ধোঁয়াশার সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যে পূর্ব জাভার একটি জাতীয় উদ্যানে আগুন নেভাতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব জাভার ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে চারজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া আরও দুজন গুরুতর দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার এই দাবানলের তীব্রতা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলগুলোতে তীব্র ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং দাবানল মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রশংসা করেছে।
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপগুলো এই দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত উপগ্রহ পর্যবেক্ষণে দেশজুড়ে ৭৯৯টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট শনাক্ত করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪২৭টি বেশি। তবে হটস্পট মানেই সরাসরি আগুন নয়, অনেক সময় একটি বড় অগ্নিকাণ্ড একাধিক স্থানে হটস্পট হিসেবে ধরা পড়তে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরমানথা নাসির জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।
এর আগে গত মাসে মালয়েশিয়া তিনটি হেলিকপ্টার, একটি বিমান এবং ৫২ জন কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এদিকে সিঙ্গাপুরও সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
আজহার/
আরও পড়ুন
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ফের ড্রোন হামলা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ভেঙে রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে নতুন করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত রিয়াজান অঞ্চলের ওই শোধনাগারে হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইউক্রেনের অভিযোগ, কিয়েভ আক্রমণ বন্ধ রাখলেও রাশিয়া ক্রমাগত তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিল।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা। এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণে তিনি প্রতারিত বোধ করছেন। ট্রাম্পের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পরও ইউক্রেনকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ড্রোন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ‘স্টারলিঙ্ক’ যোগাযোগ প্রযুক্তিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সংঘাত থামানোর আশায় রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের চুক্তিরও সমালোচনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন নিউজম্যাক্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির সঙ্গে কাজ করা কঠিন এবং আমি তার খুব একটা ভক্ত নই। তিনি ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিতও দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাহারের আশঙ্কার মধ্যে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলন, ন্যাটো ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে সহায়তার লক্ষ্যে বৈঠক করছেন। তবে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে ইইউ। সূত্র:এনডিটিাভ
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫, আহত ১৬
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী আদেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে (রাষ্ট্রীয় প্রাসাদ) হুথি গোষ্ঠীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
একটি সরকারি সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানায়, হামলায় মোট পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। হামলার সময় ইয়েমেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা প্রাসাদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, হামলায় নিহত ও আহতদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রাসাদের বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।
এই হামলাকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আদেন বিমানবন্দরে সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার পুনরাবৃত্তি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তার জনগণের মাঝে থেকে নিজ দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবে।’
ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, হুথি পরিচালিত 'আল-মাসিরা' টিভি এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রাসাদে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে দাবি করেন, তারা আদেনে অবস্থিত ‘সৌদি সামরিক অভিযান সদর দফতরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছেন এবং ইয়েমেনে যেকোনো সৌদি সামরিক উপস্থিতি তাদের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে আল-মাশিক প্রাসাদ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ‘সাবা’ জানিয়েছে, হুথিরা প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের আশপাশের বেসামরিক ঘরবাড়ি এবং মারিব শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতেও একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
আজহার/
আরও পড়ুন
মদিনার আকাশে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় মদিনার আকাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জোটের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে তিনি জানান, মদিনা অঞ্চলে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল বা এর লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি জোট। এ ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবরও জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।
তবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, গতকাল সৌদি আরবে কোনো হামলা চালায়নি তাদের বাহিনী। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই তিনি এ কথা বলেন। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎস ও এ ঘটনার সঙ্গে হুতিদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বুধবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দেয় হুতিরা। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবরের এক দিন পর এ হুমকি দেয় গোষ্ঠীটি। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে তারা এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
হুতিরা বলেছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের এসব স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে তারা। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে এ হুমকি এল।
বুধবার হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে সব পক্ষের বক্তব্য এক নয়।
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার পর সৌদি আরবগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুতিদের হামলা বেড়েছে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে ২০১৫ সালে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি আরব। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি বছর আবার সংঘাত তীব্র হয়েছে। গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর উপকূল ধরে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে সৌদি আরব ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সমর্থনে সামরিক অভিযান পুনরায় জোরদার করে।
সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিও অবনতির দিকে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি জানিয়েছে, লড়াই বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন হাসপাতাল আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, হুতিদের অবরোধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরে ৬ লাখের বেশি মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা ও গালফ নিউজ
আরও পড়ুন
ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ হামলার চিন্তা ওয়াশিংটনের
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
২০০৩ সালের ১১ মার্চ ফ্লোরিডার এগলিন বিমান ঘাঁটিতে একটি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) অস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
-->ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু হলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রচলিত বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত এই বোমা দিয়ে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পরমাণু স্থাপনায় হামলার বিকল্প প্রস্তুত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিংবা পরে এসব হামলা চালানো হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তৈরি নতুন হামলা পরিকল্পনায় জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমা বা এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা। সাধারণভাবে একে ‘মাদার অব অল বম্বস’ বলা হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত এই বোমা ব্যবহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন করে এটি প্রয়োগ করা হলে যুদ্ধের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও এই বোমা ব্যবহার করে ট্রাম্পের ঘোষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সামরিক পরিকল্পনার আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়।
ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ইরানে বোমা হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখনো দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রিপাবলিকান নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত শেষ করার চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো ইরানের অবশিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করছে। তবে হোয়াইট হাউসের সামগ্রিক কৌশল নিয়ে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। কারণ যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধু প্রেসিডেন্টের।
কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা এমন পদক্ষেপের কথা আলোচনা করছেন, যা যুদ্ধের একটি ‘চূড়ান্ত সমাপ্তি’ হিসেবে তুলে ধরা যাবে। বিশেষ করে মার্কিন জনগণের কাছে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বার্তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে ট্রাম্প নিজে সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিজয় ঘোষণার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। এদিকে কয়েকজন মিত্র ট্রাম্পকে ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তাদের সেই পরামর্শ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের যুক্তি, এখন সেনা প্রত্যাহার করে যুদ্ধ শেষ করলে সেটিকে পরাজয় হিসেবে দেখা হতে পারে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা। সেখানে সামরিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রকাশ্যে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবেন না। তবে প্রশাসনের কয়েকজন উপদেষ্টা ব্যক্তিগত আলোচনায় বলেছেন, এই অবস্থান চূড়ান্ত কি না, তা তারা নিশ্চিত নন। তাদের মতে, নির্বাচনের আগেও ট্রাম্প সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে দেশটির বিপুলসংখ্যক জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এমওএবি ব্যবহারের বিকল্পও রাখা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
