পর্দার সেই মোহনের মতোই নতুন কিছু করার শপথ নিয়েছে বিজ্ঞানী রাতুলEi Samay
Published on
:
2 min read
সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'নাসা'র সফল প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহন ভার্গব। দীর্ঘদিন আমেরিকা প্রবাসী থাকার পরে ছোটবেলার আয়া কাবেরী আম্মার খোঁজে উত্তরপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম চরণপুরে পৌঁছন। গ্রামের মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে তিনি উপলব্ধি করেন, বাইরে থেকে সমালোচনা না-করে দেশের সমস্যা সমাধানে নিজেকেই হাল ধরতে হবে। বৈজ্ঞানিক সত্ত্বাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামে মাইক্রো হাইড্রোইলেকট্রিক প্রজেক্ট তৈরি করে তিনি চরণপুরবাসীকে প্রথম আলোর মুখ দেখান। ২০০৪-এ মুক্তি পাওয়া 'স্বদেশ' সিনেমার এই গল্পে মোহনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান।
কিছুটা হলেও মোহনের ছায়া পড়েছে দুর্গাপুরের বাসিন্দা রাতুল মিত্র ঠাকুরের জীবনে। ছোটবেলায় মা-বাবার সঙ্গে বীরভূমের খয়রাশোলের ময়নাডাল গ্রামে ঠাকুর্দার বাড়িতে গিয়ে যখন দেখেন, সেখানে কোনও বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই। তখন থেকেই বিকল্প শক্তি নিয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তা শুরু। সেই রাতুল টেসলায় ইন্টার্নশিপের পরে আজ আমেরিকায় ইন্টেলের মডিউল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার। ব্যাটারি টেকনোলজি, ওয়্যারেবল ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রসেস ডেভেলপমেন্ট নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে ব্যাটারি, বিদ্যুৎ পরিবহণ এবং বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক বা পলিমার ব্যবহারের কার্যপদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন তিনি।
সম্প্রতি প্রথম ভারতীয় বাঙালি হিসেবে আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির (এসিএস) 'ইমার্জিং প্রফেশনাল স্কলার অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করেছেন রাতুল। এসিএস-এর পলিমারিক মেটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমএসই) বিভাগ পলিমার বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তরুণ গবেষকদের প্রথম বার এই বিশেষ সম্মান জানাল। মূলত ম্যাক্রোমলিকিউল, পলিমার মেটেরিয়ালের ডিজ়াইনের কার্যকারিতা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম গড়ে তুলতে এই অ্যাওয়ার্ড চালু হয়েছে।
বাবা শুভ্র মিত্র ঠাকুর আগে কর্মসূত্রে বোকারোতে থাকতেন। সেখানে একটি বেসরকারি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন মেধাবী রাতুল। এর পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন তিনি। তত দিনে পরিবার বোকারো থেকে দুর্গাপুরে চলে আসে। ডিএসপি মেন হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শুভ্র ও তাঁর স্ত্রী চৈতালি মিত্র ঠাকুরকে কখনও ছেলের পড়াশোনা নিয়ে ভাবতে হয়নি। শুভ্র বলেন, 'যাদবপুর থেকে সোজা আমেরিকায় চলে যায় রাতুল।' সেখানে টেক্সাস অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে বিকল্প শক্তি ও ব্যাটারি টেকনোলজিতে পিএইচডি করার সময়ে কারণ জানতে চাওয়া হলে, ছোটবেলায় বীরভূমের ময়নাডাল গ্রামে বিদ্যুৎ না-থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানান রাতুল। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পিএইচডি করার ছাড়পত্র পেয়ে যান। ছেলের সাফল্যে গর্বিত শুভ্র জানালেন, রাতুল সম্প্রতি শিকাগোতে এসিএস-র ন্যাশনাল মিটে নিজের গবেষণা উপস্থাপনের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।
বিদেশে অজস্র সাফল্য পেলেও 'স্বদেশ'-এর মোহন ভার্গবের মতো দেশের জন্যই কিছু করতে চান রাতুল। তাঁর ইচ্ছে আইআইটি-র অধ্যাপক হওয়ার এবং এমন একটি সুযোগ পাওয়া, যেখানে দেশের জন্য কিছু অবদান রাখা সম্ভব।