ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সকল মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তার প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজের মন্ত্রণালয় লোক আফটার করা। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করেলন, না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফিরাতে পারলেন। দৃশ্যমান কোন উন্নতি নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যারাই পালন করেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো। এই আগের চেয়ে ভালো মাপকাঠি কি তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলে সাংবাদিকদের সাথে পূর্ব নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান এমপি।
ওই মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি তাঁর দলের অবস্থান তুলে ধরে বলেন , “স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনও ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের এডিশনাল সেক্রেটারী হিসাবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে এখানে। জাতীয় সংসদের চীফ হুইফ যিনি জাতীয় সংসদের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকেন তিনি তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপি’র প্রার্থী বিজয়ী হবে না সেখানে কোনো বরদ্দ দেয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। তার মানে আগ থেকে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এরকম ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে হ্যাঁ নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত আমরা চাইব। যখন সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চিয়তা পাব তখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব। আমরা কারও স্কীপ গুড হতে চাই না। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে সেই ক্ষমতায় যাবে।
জেলা জামায়াত আমীর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আমির আলীর উপস্থাপনায় এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না। তাদের আয়নায় সমাজের দোষ ত্রুটি ধরা পড়ে। স্বাধীনতার পর সময়ে ১৯৭৫ সালে সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ হয়েছিল। রাজনীতির উপর আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সবগুলো সংবাদ মাধ্যম সরকার তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে নিয়েছিল। ৪টি সংবাদ মাধ্যম ছাড়া আরও কোনো সংবাদ মাধ্যমের অস্তিত রাখা হয়নি।
এর আগে সকালে সিলেট থেকে বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছলে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো: শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিন সহ দলের নেতারা।
এরপর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে পুলিশের একটি চৌকস দল সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা শফিকুর রহমানকে গার্ড অব ওনার প্রদান করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা মৌলভীবাজার শহরে এটাই তার প্রথম সফর। জামায়াত আমীরের সফর ঘিরে স্থানীয় নেতা কর্মীর মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।
এর আগে জামায়াত আমীর সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমীর মোঃ ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহেদ আলী, সিলেট মহানগরী নায়েবে আমীর ডঃ নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগরী সেক্রেটারি মোঃ শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা সেক্রেটারি মোঃ জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া, ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।
এদিকে সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে জামায়াত আমীর মতবিনিময় সভা শেষে দুপুর ২ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও একই দিন বিকেলে তিনি রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে ।