ছোটবেলা থেকেই তুরস্কের ঐতিহাসিক তোপকাপি প্রাসাদ দেখার ইচ্ছা ছিল জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর। দীর্ঘদিনের সেই আকাঙ্ক্ষা অবশেষে পূরণ হয়েছে তাঁর তুরস্ক সফরে। দেশটির তিনটি ঐতিহাসিক শহর ঘুরে দেখার পাশাপাশি তোপকাপি প্রাসাদের জাদুঘরে সংরক্ষিত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিচিহ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। একই সফরে সাহাবি হজরত আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রা.)-এর কবরও জিয়ারত করেছেন এই ইসলামি বক্তা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তুরস্ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এসব কথা জানান মিজানুর রহমান আজহারী।
পোস্টে তিনি লেখেন, টানা দুই সপ্তাহের দীর্ঘ সফরে তুরস্কের তিনটি ঐতিহাসিক শহর—ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও বুরসা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর। এই সফর নতুন স্মৃতির অধ্যায় রচনার পাশাপাশি অভিজ্ঞতার ঝুলিকেও সমৃদ্ধ করেছে বলে জানান তিনি।
আজহারী বলেন, ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদ পরিদর্শনের আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর ছোটবেলা থেকেই। অবশেষে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তোপকাপি প্রাসাদের একটি জাদুঘরে মহানবী (সা.)-এর পবিত্র চুল ও দাড়ি, চাদর, তরবারি, জুতা, দন্তের অংশ ও পায়ের ছাপসহ নবী পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন আজহারী। এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর তুরস্ক সফরকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে তুলেছে।
তিনি আরও জানান, উসমানীয় শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে মহানবী (সা.)-এর স্মৃতিচিহ্নগুলো তোপকাপি প্রাসাদে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেগুলো সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
তুরস্ক সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আজহারী বলেন, ইস্তাম্বুলের আইয়ুব সুলতান মসজিদের পাশে শায়িত রয়েছেন মহানবী (সা.)-এর প্রিয় সাহাবি হজরত আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রা.)। এই সফরে তাঁর কবর জিয়ারতের সৌভাগ্যও হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই সাহাবি তুরস্কে ‘আইয়ুব সুলতান’ নামে পরিচিত। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর পর আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রা.)-এর বাড়িতেই অবস্থান করেছিলেন।
তুরস্কের ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, মহানবী (সা.)-এর স্মৃতিচিহ্ন দেখা এবং প্রিয় সাহাবির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আজহারীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি সফরটি তাঁর জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

