বাঙলা কলেজে একাডেমিক কাজে পরিবহন না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
রিপোর্ট: আশিকুর রহমান রকিব, ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ
সরকারি বাঙলা কলেজে তিনটি বাস থাকা সত্ত্বেও সিলেবাসভুক্ত বাধ্যতামূলক মাঠকর্ম পরিচালনায় পরিবহন-সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, বাসের জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আনুষঙ্গিক খরচ বহনের প্রস্তাব দিয়েও কলেজের বাস পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে বাস ভাড়া করে মাঠকর্ম সম্পন্ন করতে হয়েছে তাঁদের।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর ডেমরার জামদানি পল্লিতে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের GELb: 3011 কোর্সের মাঠকর্ম অনুষ্ঠিত হয়। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় তাঁতিদের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে জরিপ পরিচালনা করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, মাঠকর্মের জন্য কলেজের বাস বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এমনকি বাসের জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আনুষঙ্গিক ব্যয় বহনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও বাস না পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে নিজেদের খরচে পরিবহন ভাড়া করতে হয় তাঁদের। এ ঘটনায় একাডেমিক কার্যক্রমে কলেজের পরিবহন-সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান হোসেন। তিনি লেখেন, ‘বারবার আবেদন করেও কলেজের বাস পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে থাকা বাস তাঁদের প্রয়োজনে ব্যবহার করা না গেলে সেগুলোর কার্যকারিতা কী?’
বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, মাঠকর্মের জন্য প্রথমে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে গিয়ে হাজারি গুড় তৈরির প্রক্রিয়া এবং গাছিদের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা ছিল। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ ঢাকার বাইরে বাস দিতে পারবে না বলে জানালে পরে স্থান পরিবর্তন করে ডেমরার জামদানি পল্লি নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি ও স্টাফদের খরচ বহনের প্রস্তাব দিয়েও বাস পাইনি। বাধ্য হয়ে নিজেদের খরচে বাস ভাড়া করে মাঠকর্ম সম্পন্ন করেছি।’
এ বিষয়ে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল আরেফীনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, সরকারি বাঙলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিটুল চৌধুরী বলেন, ‘শহরের বাইরে আমরা অনুমতি ছাড়া কলেজের বাস দিতে পারি না।’
কলেজে তিনটি বাস থাকা সত্ত্বেও সিলেবাসভুক্ত মাঠকর্মের মতো একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পরিবহন-সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে বাস বরাদ্দের নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, একাডেমিক কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় বাস বরাদ্দের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, বরাদ্দপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন-সুবিধা সহজলভ্য করা প্রয়োজন।
