মুম্বাইয়ের জুহুতে অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। হামলায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালকসহ দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দায় স্বীকারের পোস্ট ছড়ালেও সেটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার তদন্তে রাজস্থানের কোটা থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের দুজন হরিয়ানা ও একজন বিহারের বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্য, হামলার পর তাঁরা মোটরসাইকেল ফেলে ট্রেনে করে পালানোর চেষ্টা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের একজনের সঙ্গে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। অনিলের সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের সম্পর্ক এবং হামলার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবে জন্ম লরেন্স বিষ্ণোইয়ের। চণ্ডীগড়ের ডিএভি কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে জড়ান। সেখানেই গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি গুজরাটের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।
সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের বিরোধের সূত্র ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার পবিত্র হওয়ায় ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় সম্প্রদায়টি। ২০১৮ সালে সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে। এরপর ২০২৪ সালে সালমানের বান্দ্রার বাসভবনের বাইরে গুলির ঘটনাতেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্রের অভিযোগ সামনে আসে।
২০২২ সালে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যা এবং ২০২৪ সালে সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিক হত্যার পরও বিষ্ণোই চক্রের নাম আলোচনায় আসে। তদন্তকারীদের মতে, হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করা চক্রটির অন্যতম কৌশল। তবে টাইগার শ্রফের ওপর হামলায় লরেন্স বিষ্ণোই সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
