‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, সচেতনতামূলক মহড়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রস্তুতি বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় সচেতনতামূলক মহড়া
র্যালি শেষে কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ও বজ্রপাত মোকাবিলায় সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতায় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মহড়ায় জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় দুর্যোগের মুহূর্তে কীভাবে নিরাপদ থাকতে হবে, কীভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করতে হবে, তা হাতে-কলমে প্রদর্শন করা হয়।
বিশেষ করে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলায় পারিবারিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব
মহড়া শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী, কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল হাফিজসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে সচেতন হতে হবে। দুর্যোগের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, দুর্যোগের সময় অনেক ক্ষেত্রে আতঙ্ক ও অসচেতনতার কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যায়। তাই শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে সবাইকে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বক্তারা দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পরিবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করার আহ্বান জানান। তাদের মতে, বাড়িতে জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের ধারণা থাকা, নিরাপদ আশ্রয় চিহ্নিত করা এবং উদ্ধারকারী সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কুমিল্লায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
The post কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত appeared first on SATV.
