খাড়া পাহাড়ের চূড়া থেকে বা খাদের কিনারা থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ মারার দুঃসাহস দেখান অনেক ডাইভারই। কিন্তু, মুক্ত হিমশৈল থেকে মহাসাগরে ঝাঁপ দেওয়ার মতো দুঃসাহস কম মানুষের মধ্যেই আছে। সেই দুঃসাহসিক কাজটিই করে দেখালেন ২৮ বছর বয়সি কানাডিয়ান ডাইভার মলি কার্লসন। মহাসাগরে ভাসমান হিমশৈল থেকে উল্টো দিকে ফিরে ঝাঁপ দেওয়ার নজির গড়েছেন তিনি। সেই দৃশ্যের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
কানাডার বাসিন্দা মলি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি ভেসে থাকা হিমশৈলের খাড়া চূড়া থেকে দুঃসাহসিক ঝাঁপ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। ২৮ বছর বয়সি এই ক্রীড়াবিদ কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের টুইলিংগেট উপকূলে, প্রায় ১৫ মিটার উপর থেকে পিছন দিকে ফিরে ঝাঁপ দেন হিমশীতল জলে। তাঁর এই দুঃসাহসিক কীর্তি হাই ডাইভিংয়ের জগতে মহিলাদের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সুউচ্চ চূড়া থেকে জলে ঝাঁপ দেওয়ায় বিশেষ দক্ষতা রয়েছে মলির। তবে, একটি ভাসমান হিমশৈল থেকে ডাইভ দেওয়া ছিল তাঁর কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কারণ, হিমশৈলের নড়াচড়া, বরফের পিচ্ছিল পৃষ্ঠ এবং হিমশীতল জলের মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এই ডাইভকে সাধারণ ক্লিফ ডাইভের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, অসাধারণ দক্ষতায় মলি সেই দুধসাদা বরফের বিরাট খণ্ড থেকে হাড়কাঁপানো জলে ঝাঁপ দিচ্ছেন! স্থির ডাইভিং প্ল্যাটফর্মের মতো হিমশৈল নির্ভরযোগ্য বা নিরাপদ নয়। এটি যে কোনও সময় সরে যেতে, ফেটে যেতে কিংবা উল্টে যেতে পারে। তাই, একটি উপযুক্ত হিমশৈল খুঁজে বের করা এই দুঃসাহসিক অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।
ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন মলি নিজেই। ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ বার দেখা হয়েছে। ৩৯ হাজার নেটাগরিক লাইক করেছেন তাতে। ভিডিয়োটি দেখার পর মলির দৃঢ়তা ও সাহসের প্রশংসা করেছেন নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণকেও সাধুবাদ জানিয়েছে নেটপাড়া।
