যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন কেটি জাকারিয়া। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনার মুখে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিদায়ের খবর নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টােবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি জাকারিয়াকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, গণমাধ্যমের কাছ থেকে তাকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে এবং চাইলে তিনি এ দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন। খবর বিবিসির।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টােবর) হোয়াইট হাউসে জাকারিয়ার প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি চলে মাত্র ১৪ মিনিট। সেখানে সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এ সময় তাকে বেশ নার্ভাস দেখাচ্ছিল এবং বক্তব্যের জন্য নোটবুকের ওপর নির্ভর করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে নিজের স্বামীর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে বোঝান বলেও সমালোচনা হয়।
তার আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় কাজ করার জন্য বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, চীনে থাকাকালে তিনি পরীক্ষাটি দিয়েছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার তিনি স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বার পরীক্ষায় পাস করেননি। তবে তার দাবি, চীনে যথাযথ যোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আইন বিষয়ে কাজ করেছেন।
ফক্স নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের সময়ও তার যোগ্যতা ও দায়িত্বের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জাকারিয়া জানান, তাকে নিয়োগ দেওয়ার এক সপ্তাহও হয়নি, এর মধ্যেই তিনি প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নেন। শুক্রবার ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি; তার দায়িত্ব ছিল যোগাযোগ ও গণমাধ্যম সামলানো।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জাকারিয়ার আকস্মিক বিদায় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির বিদায় রিপাবলিকান শিবিরের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচ্চি দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় পদ ছাড়েন। জাকারিয়ার বিদায় সেই সময়ের চেয়েও দ্রুততম বিদায়ের ঘটনা হতে যাচ্ছে।
