Published on
:
1 min read
এই সময়, ঘোলা ও নৈহাটি: উত্তর শহরতলির সোদপুর ঘোলা রোডের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নবজাগরণ সংঘের দুর্গাপূজা পা রাখল পঞ্চাশ বছরে। সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে ক্লাব প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন চত্বরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। ১৯৬১ সালে সুকুমারপুর ও ঘোলা রোডের কয়েকজন সমাজকল্যাণকামী মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।
শুরুর দিকে ক্লাবের প্রধান আকর্ষণ ছিল শ্যামাপূজা। এলাকার বাসিন্দাদের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ১৯৭৭ সালে শারদোৎসব শুরু হয়। বর্তমানে ঘোলা রোড, সুকুমারপুর ও গ্রিন পার্ক—এই তিন অঞ্চলের যৌথ সহযোগিতা ও পারস্পরিক মেলবন্ধনে দুর্গাপূজাটি পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নবজাগরণ সংঘ শুধুই একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক আবেগ ও ঐক্যের প্রতীক। সারা বছর ধরেই রক্তদান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে একসূত্রে বেঁধে রাখে এই ক্লাব।
অন্যদিকে, শুধুমাত্র চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা বা থিমের চাকচিক্য নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও উৎসবের মেলবন্ধনে ৩৬তম বর্ষে পদার্পণ করল নৈহাটি বিজয়নগরের কালীতলা অধিবাসী উন্নয়ন সমিতির দুর্গাপূজা। তৃতীয়ায় মহিলাদের শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে বরণের মাধ্যমে মণ্ডপে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে এই পুজোর মূল আকর্ষণ তাদের বছরভর জনমুখী কর্মকাণ্ড।এ বারও সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে রক্তদান শিবির এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সম্পাদক আশিস মৈত্রের পরিচালনায় ডেঙ্গি সচেতনতা শিবির ও পথ নিরাপত্তা প্রচারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ক্যান্সারে আক্রান্ত স্থানীয় নরেন্দ্র বিদ্যানিকেতনের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাজদীপ বসুর চিকিৎসার স্বার্থে মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে সমিতির ২৬ জন সদস্য রক্তদান করেছেন এবং পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন আর্থিক সহায়তা।
এই উদ্যোগের অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবীণ নাগরিকরা। সমিতির সভাপতি ৯৭ বছর বয়সী অখিল রঞ্জন দাস এবং সহ-সভাপতি ৮৪ বছরের সুকুমার ভদ্রর সক্রিয় উপস্থিতি ও মার্গদর্শন তরুণ প্রজন্মকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়। গোবিন্দ নন্দী, অমিত দাস, অতীন গুপ্ত, শম্ভু ঘোষ ও চন্দ্রশেখর রায়ের মতো প্রবীণদের ছায়াসঙ্গী করে মানবিকতার অনন্য বার্তা নিয়ে এ বারও উৎসবের আঙিনায় প্রস্তুত কালীতলা।
