Published on
:
3 min read
শুভাশিস সৈয়দ
ট্রেনের কামরায় প্রথমে সহযাত্রীর সঙ্গে ভাব জমানো হয়েছিল। তার পরে অসুস্থ যাত্রীকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়ে হাতসাফাই। সহযাত্রীর ব্যাগের চেন খুলে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকার চুনি পাথর নিয়ে চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ওই চুরির দু’সপ্তাহের মধ্যে পাথরটি উদ্ধার করল রেল পুলিশ। পূর্ব রেল সূত্রে খবর, আরপিএফ ও জিআরপির যৌথ তদন্তে হরিয়ানা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫.৪৪৮ কেজি ওজনের চুনি। তবে মূল অভিযুক্ত-সহ চার জনকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি।
৮ অক্টোবর অজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের এ২ কামরায় ঘটনা। ওই ট্রেনে অজমের থেকে শিয়ালদহে ফিরছিলেন অলকা বৈদ্য (৫৮) ও তাঁর স্বামী রাকেশ বৈদ্য (৫৯)। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনের কামরায় এক ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে আলাপ জমায়। রাকেশ অসুস্থ বোধ করায় সাহায্যের প্রস্তাব দেয় সেই অভিযুক্ত। এর পরে কোনও একটি সুযোগে ব্যাগের চেন খুলে চুনি পাথর থাকা থলি চুরি করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। কাঁকুড়গাছি সিগন্যালের কাছে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পরে ‘রেলমদত’-এ অভিযোগ জানান ওই দম্পতি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর শিয়ালদহ জিআরপি থানায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে নামে আরপিএফের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (সিআইবি) ও জিআরপি। শিয়ালদহের সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনারের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয় বিশেষ তদন্তকারী দল।
এক নজরে
ট্রেনে চুরি: অজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসে সহযাত্রীর ব্যাগ থেকে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা মূল্যের চুনি পাথর চুরির অভিযোগ।
চুরির তারিখ: ৮ অক্টোবর, ট্রেনের এ২ কামরায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ।
চুরির কৌশল: প্রথমে আলাপ জমিয়ে পরে অসুস্থ যাত্রীকে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই সুযোগে ব্যাগ থেকে চুনি পাথরের থলি চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
পাথর উদ্ধার: রেল পুলিশের আরপিএফ ও জিআরপির যৌথ তদন্তে হরিয়ানা থেকে চুরি যাওয়া পাথর উদ্ধার হয়েছে।
উদ্ধারের তারিখ: ১৮ অক্টোবর, হরিয়ানার হান্সি জেলার বাথোল গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে পাথর উদ্ধার করা হয়।
ওজন: উদ্ধার হওয়া চুনি পাথরের ওজন ৫.৪৪৮ কেজি।
কী ভাবে এগোল তদন্ত?
তদন্তকারীরা প্রথমে বিভিন্ন স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। ৯ অক্টোবর কাঁকুড়গাছি রেল কেবিনের কাছে বাগমারি এলাকা এবং বর্ধমান স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজনদের গতিবিধির সূত্র মেলে। তারপরে সেই ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেন অভিযোগকারী যাত্রী। তদন্তে জানা যায়, সন্দেহভাজনরা ৫-৮ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধমানের একটি অতিথিশালায় ছিল।
এর পরে সূত্রে খবরের উপর ভিত্তি করে দিল্লির সুলতানপুরী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু অভিযুক্তদের হদিস মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আরেকটি তথ্যের ভিত্তিতে হরিয়ানায় অভিযান চালান তদন্তকারীরা। দক্ষিণ-পশ্চিম রেলের ম্যাঙ্গালোর আরপিএফের সহযোগিতায় ১৮ অক্টোবর হরিয়ানার হান্সি জেলার বাথোল গ্রামে প্রধান সন্দেহভাজন সন্দীপ ওরফে রোডার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া চুনি।
অপরাধের পিছনে সানসি গ্যাং?
রেল পুলিশের অনুমান, এই চুরির পিছনে হরিয়ানার ‘সানসি গ্যাং’-এর যোগ থাকতে পারে। ট্রেনে যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে তাঁদের অসতর্কতার সুযোগে ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র চুরি করার অভিযোগ রয়েছে ওই দলের বিরুদ্ধে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যোগসূত্র নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সন্দীপ ওরফে রোডা-সহ চার সন্দেহভাজনের খোঁজ চলছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা, গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন রেল জ়োনের মধ্যে সমন্বয়ের ফলেই চুরি যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের নিজেদের জিনিসপত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনও সন্দেহজনক ঘটনা নজরে এলে রেল পুলিশকে অথবা ‘রেলমদত’-এ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
FAQ
১. কোন ট্রেনে চুনি পাথর চুরির ঘটনা ঘটেছিল?
অজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের এ২ কামরায় ৮ অক্টোবর চুরির ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ।
২. কত টাকার চুনি পাথর চুরি হয়েছিল?
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা মূল্যের চুনি পাথর চুরি হয়েছিল।
৩. চুরি যাওয়া পাথর কি উদ্ধার হয়েছে?
হ্যাঁ। আরপিএফ ও জিআরপির যৌথ তদন্তে হরিয়ানার হান্সি জেলার বাথোল গ্রাম থেকে চুরি যাওয়া পাথর উদ্ধার করা হয়েছে।
৪. উদ্ধার হওয়া চুনি পাথরের ওজন কত?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চুনি পাথরের ওজন ৫.৪৪৮ কেজি।
৫. কী ভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছিল?
অভিযোগ, এক ব্যক্তি ট্রেনের কামরায় ওই দম্পতির সঙ্গে আলাপ জমায়। রাকেশ বৈদ্য অসুস্থ বোধ করলে সাহায্যের প্রস্তাব দেয়। সেই সুযোগে ব্যাগের চেন খুলে চুনি পাথরের থলি নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতী।
৬. কোথা থেকে চুরি যাওয়া পাথর উদ্ধার হয়েছে?
১৮ অক্টোবর হরিয়ানার হান্সি জেলার বাথোল গ্রামে প্রধান সন্দেহভাজন সন্দীপ ওরফে রোডার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাথর উদ্ধার করা হয় বলে রেল সূত্রে খবর।
৭. এই ঘটনায় কত জন অভিযুক্ত এখনও অধরা?
প্রধান সন্দেহভাজন সন্দীপ ওরফে রোডা-সহ চার জনকে এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁদের খোঁজে তদন্ত চলছে।
৮. চুরির পিছনে কি সানসি গ্যাংয়ের হাত রয়েছে?
রেল পুলিশের অনুমান, হরিয়ানার ‘সানসি গ্যাং’-এর যোগ থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যোগসূত্র নিশ্চিত নয়।