৪৫তম বিসিএসের মৎস্য ক্যাডারে মেধাতালিকায় ২৮তম হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না আসায় আত্মহত্যার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে মনিরুজ্জামান জানান, ৪৫তম বিসিএসের মৎস্য ক্যাডারে তিনি গেজেট-বঞ্চিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে জুলাই চত্বরে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মনিরুজ্জামান। তবে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে তাঁর নাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেন তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে মনিরুজ্জামান বলেন, চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফলাফল আজ শূন্য। মেধাতালিকায় ২৮তম হওয়ার পরও কী অপরাধে তাঁকে বাদ দেওয়া হলো, সেটিই তাঁর প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে বৃদ্ধ বাবার সামনে কীভাবে দাঁড়াবেন, তা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
মনিরুজ্জামানের দাবি, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই সামনের সারিতে থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। অথচ যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁরা লড়াই করেছিলেন, এখন তাঁকেই সেই বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মনিরুজ্জামান বলেন, একটি বিসিএসের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের মূল্যবান কয়েকটি বছর পরিশ্রম করতে হয়। সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরও চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া অমানবিক। কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা মামলা-মোকদ্দমা না থাকার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনের দোহাই দিয়ে আর কত প্রার্থীর জীবন নষ্ট করা হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে মনিরুজ্জামানকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
এমএ
