চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সন্দ্বীপ চ্যানেলে ভোলা থেকে এসে চারটি নৌকায় জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিল। অভিযান চালিয়ে এই সময় চারটি নৌকা ও সাত টন মা ইলিশ জব্দ করা হয়। এছাড়া এক লাখ মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করা হয়। এমন অপরাধর চারটি নৌকার মালিককে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।
১১ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে সোমবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সীতাকুণ্ড উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ্।
মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত (মোট ২২ দিন) সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রা ও জীবিকা সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে চালসহ বিকল্প আয়বর্ধক সহায়তা প্রদান করা হয়।
কিন্তু সন্দ্বীপ চ্যানেলের গভীর সমুদ্রে ভোলা থেকে এসে মাছ শিকার করছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন তথ্য পেয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহের নেতৃত্বে সমুদ্রে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ইকবাল হোসাইন ও তার দল। দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা গভীর সমুদ্র অভিযানের সময় নৌকায় থাকা জেলারা অভিযান পরিচালনাকারীদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তারা ব্যর্থ হয়ে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টাও করে।
অভিযানে চারটি নৌকা ও জেলেদেরকে আটক করা হয়। এ সময় চারটি নৌকার মধ্যে প্রায় ৭ টন ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। মাছগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। মাছ শিকারে ব্যবহৃত এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় চার নৌকার মালিককে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দকৃত ইলিশ মাছ সাধারণত স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ্ জানান, ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিটি নিষিদ্ধ সময়কে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। তার ধারাবাহিকতায় এই অভিযানটি পরিচালনা করে সফল হতে পেরেছি। মা ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিজে
