ছবি: সংগৃহীত
-->আপনার সবচেয়ে সুন্দর আমলটি কি শুধু আল্লাহর জন্য? নাকি মনের কোণে একটু আশা থাকে, কেউ দেখুক, প্রশংসা করুক? সুরা কাহফের শেষ আয়াতটি ঠিক এই সূক্ষ্ম প্রশ্নের জবাব দেয়।
আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং ইবাদতে কাউকে শরিক না করে। অর্থাৎ আমল কবুলের দুটি শর্ত আছে: কাজটি সৎ হতে হবে, আর নিয়ত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য।
আয়াত নাজিলের কারণ
সুরা কাহফ মক্কায় অবতীর্ণ। তখন মুসলমানরা কঠিন পরীক্ষার মুখে ছিলেন, আর এই সুরায় ঈমান, ধৈর্য ও অহংকারের পরিণতি নিয়ে একের পর এক শিক্ষণীয় ঘটনা এসেছে। সমাপনী আয়াতে এসে আল্লাহ জানিয়ে দেন, এত ঘটনার সারকথা হলো খাঁটি নিয়তে সৎ আমল।
শানে নুজুল
প্রথমটি ইমাম হাকেমের মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। এক মুসলমান আল্লাহর পথে জিহাদ করতেন, কিন্তু মনে মনে চাইতেন তার বীরত্ব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। তার প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাজিল হয়। এ থেকে বোঝা যায়, এমন নিয়তে সওয়াব নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয়টি ইবনে আবী হাতেম ও ইবনে আবিদ দুনিয়া তার ‘ইখলাস’ গ্রন্থে তাউস রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন। এক সাহাবি রাসুল সা.-কে বললেন, ইবাদতের সময় তার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টিই থাকে, তবু মনে চাওয়া জাগে মানুষ কাজটি দেখুক। রাসুল সা. কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, তখন আয়াতটি নাজিল হয়।
আজ সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই শিক্ষা আরও প্রাসঙ্গিক। দান, ওমরাহ বা ইফতারের ছবি পোস্ট করার আগে নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করা দরকার, কাজটা কার জন্য? অবশ্য ভালো কাজের কথা প্রকাশ করা সব সময় নিষিদ্ধ নয়, আসল বিষয় হলো অন্তরের উদ্দেশ্য।
সাহাবির অনুভূতির কথা শুনেও তাই আমরা শিখি, ভালো মানুষও এই দুর্বলতায় পড়তে পারে। সমাধান হলো নিয়ত বারবার শুধরে নেওয়া, আর গোপনে কিছু আমল রাখা।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক
