চলতি মৌসুমেই প্রাণঘাতি ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণ। আর হাসপাতালে এই রোগে আক্রান্ত রোগী লাখের ঘরে। এমন বাস্তবতায় প্রতিরোধের বিকল্প হিসেবে সামনে আসছে কিউডেঙ্গা টিকা। গবেষকরা বলছেন, ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতার হার ৮০ শতাংশের বেশি। এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে ৯০ শতাংশের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়বে না।
ডেঙ্গুর প্রকোপে শীর্ষস্থানীয় দেশ ব্রাজিল এবং ইন্দোনেশিয়া। দেশ দুটি এই ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পেতে প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর আগেই কিউডেঙ্গা ভ্যাকসিনের প্রয়োগ করে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড সহ বিশ্বের ৫০টির মতো দেশ এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে তার দেশের জনগণের ওপর। অথচ বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিনের কোনো ট্রায়ালই দেয়া হয়নি।
জাপানের তাকেদা ফার্মার এই ভ্যাকসিন ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গবেষকরা বলছেন, ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতার হার ৮০ শতাংশের বেশি। এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে ৯০ শতাংশের প্রয়োজন পড়বে না হাসপাতালে ভর্তির।
ভাইরোলজিস্ট ও ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ বলেন, জাপানের কিউডেঙ্গা ভ্যাকসিন কিন্তু একটা আশার আলো জাগিয়েছে। ডেঙ্গু হোক না হোক এটা সবাই দিতে পারবে এবং তারা বলছে যে যাদের ডেঙ্গু একবার হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিন আরো অধিক কার্যকরী। সবাইকে দেওয়া যাবে বলতে- যাদের ডেঙ্গু হয়েছে এবং যাদের ডেঙ্গু হয় নাই সবাই নিতে পারবে। শুধুমাত্র প্রেগন্যান্ট মহিলারা এটা নিতে পারবে না।
প্রতিবেশী ভারতেও দীর্ঘ সময় চালানো হয়েছে ট্রায়াল। তবে ২০২৭ সালের শুরুতেই বেসরকারিভাবে ভ্যাক্সিন পাবে দেশটি।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আমাদের বেসরকারি খাতে কারা এটা বিপণন করবে? এবং এটা করে তাদের পোষাবে কিনা? সরকারের যে বাণিজ্যনীতি সেখানে এটা কার্যকরী হবে কিনা? যদি এটাকে আমরা অত্যাবশ্যকীয় তালিকার মধ্যে না ফেলি এবং এটা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হয়, তাহলে বাংলাদেশে আসলে এগুলোর কাস্টমস ডিউটির ব্যাপার আছে। তাহলে বাণিজ্যের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দামটা কত পড়বে? সায়েন্টিফিক বিষয় ছাড়াও এখানে বাণিজ্যিক বিষয়গুলো বিবেচনার বিষয় আছে। সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু না হলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। সায়েন্টিফিক্যালি মানসিকতার অধিকারী জনগণ এবং বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যকর্মী এসবগুলো মিলিয়ে কিন্তু আমাদের এই অবস্থাটার উত্তরণ ঘটাতে হবে। তবে হুট করে একটা কিছু করতে গিয়ে যেন আমরা কোন রকম সমস্যার মধ্যে না পড়ি।
ভ্যাক্সিনটি আমদানির বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের ব্যবহার আংশিকভাবে বেসরকারি উদ্যোগে শুরু হয়েছে। যারা ডেঙ্গু ভ্যাকসিন কিনতে সক্ষম, তারা ব্যাংকক, ব্রাজিল এবং অন্যান্য কিছু দেশ থেকে এটি কিনছেন। তবে খুব ব্যাপক আকারে এটি এখনো দেয়া হচ্ছে না। ভারতে এটি বেসরকারিভাবে শুরু হয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্য খাতে এখনো চালু হয়নি। বিষয়টা এমন নয় যে আমরা এটি নিয়ে ভাবছি না, তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এমনকি আমরা ভাবছি যে আমাদের পক্ষ থেকে কী করা যায়।
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমরা ছুটে যাই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। কর্মকর্তা জানান, সারা বিশ্বে কিউডেঙ্গা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারী কোন পক্ষই ডেঙ্গু প্রতিরোধী ভ্যাক্সিনটি আমদানিতে আগ্রহ দেখায়নি।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক নাঈম গোলদার বলেন, ভ্যাকসিনটিতে ডাব্লিউএইচও-র অনুমোদন রয়েছে। প্রিকুয়ালিফিকেশন রয়েছে। তাই যদি কোনো বৈধ আমদানিকারক এটা আমদানি করতে চায়। তারা যদি আমাদের এখানে ডকুমেন্ট সাবমিট করে, তাহলে আমরা যত ফাস্ট করা যায়, যত ত্বরান্বিত করা যায়, তত ত্বরান্বিত করে আমরা আমাদের টোটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রক্রিয়াগুলা শেষ করব।
বাংলাদেশে বেসরকারিভাবে আমদানি করা হলে, দুই ডোজের এই টিকার দাম পরবে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর সরকার চাইলে বিনামূল্যে নাগরিকদের দিতে পারে এই টিকা।
