নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ · ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৩৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নারী শিল্পীদের গান নিয়ে আপত্তির মুখে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল বাউলগানের আসর। তবে শেষ পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ওই আয়োজন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীর বাড়িতে এ গানের আয়োজন করা হয়। হাতিয়া গ্রামের পাশের তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামেই প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়ি।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের বাড়িতে ছোট পরিসরে বাউলগানের আয়োজন করেছিলেন শওকত আলী। সেখানে স্থানীয় দুই নারী শিল্পীর গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নারী শিল্পীদের গান নিয়ে আপত্তি তুলে বুধবার স্থানীয় দুই বাসিন্দা দিরাই থানায় আবেদন করেন।
এরপর থানা-পুলিশ শওকত আলীর সঙ্গে কথা বলে। পরে গান হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার রাতে সীমিত পরিসরে গানের আয়োজন হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরার হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখে আসছেন, ওই প্রবাসী দেশে এলে বাড়িতে গানের আসর করেন। তিনি সৌখিন মানুষ। বৃহস্পতিবার দিনের বেলা তিনি শুনেছিলেন, গান হবে না। পরে রাতে সেখানে কিছু সময় গান হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন।
গানের আয়োজন বন্ধের জন্য থানায় আবেদনকারীদের একজন হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসান। শুক্রবার তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ ছিল না। নারী শিল্পীদের বিষয়টি যেভাবে প্রচার করা হয়েছে, সেটি যেন না হয়, তারা তা চেয়েছিলেন। থানায় আবেদন করার পর আয়োজক ও পুলিশ তাদের জানিয়েছিল, গান হবে না।
কামরুল হাসান বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে গান শুরু হয়। তারা পুলিশকে বিষয়টি জানান এবং রাত দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তবে পুলিশ আসেনি। দিরাই সদর থেকে তাদের এলাকায় যেতে অন্তত তিন ঘণ্টা লাগে উল্লেখ করে পরে তারা পুলিশকে আর আসতে নিষেধ করেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম শুক্রবার বলেন, এলাকাটি দুর্গম। বৃহস্পতিবার আয়োজক শওকত আলীর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে নানা কথাবার্তা হওয়ায় গানের আয়োজন হবে না। পরে রাতে সেখানে কিছু সময় গান হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
এর আগে দিরাইয়ে ‘ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র বাধার মুখে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করতে হয়েছিল। ৫ অক্টোবর দিরাই উপজেলা সদরের স্টেডিয়ামে স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনা নিয়ে সে সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
