জানাজা ও দাফন আজ
উত্তরবঙ্গের সংগীতাঙ্গনের প্রাণপুরুষ ফারুক ভূঁইয়া আর নেই
উত্তরবঙ্গের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ, সুরসাধক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ফারুক ভূঁইয়া আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৫৯ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে নীলফামারী সদর উপজেলার কলেজ স্টেশন হারোয়া এলাকায় নিজ বাসায় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন ফারুক ভূঁইয়া। পরে স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
২৫ বছর ধরে গুণী শিল্পীদের সম্মাননা
সংগীতচর্চার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফারুক ভূঁইয়া। নিজ উদ্যোগে তিনি কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত ফিরোজ সাঁই ও পিলু মমতাজের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিষ্ঠা করেন ফিরোজ সাঁই ও পিলু মমতাজ স্মৃতি সংসদ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই সংগঠনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা দিয়ে আসছিলেন তিনি।
চলতি বছরের ২৯ আগস্ট নীলফামারী শহীদ মিনারে স্মৃতি সংসটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে তাঁর উদ্যোগ ও সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঞ্চে ছিল শেষ পরিবেশনা
সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ও আজীবন সাধনায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন ফারুক ভূঁইয়া। সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত একটি কালজয়ী গানের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন তিনি। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ মঞ্চ পরিবেশনা।
সংগীতের পাশাপাশি নিজের জন্মভূমি নীলফামারীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিও ছিল তাঁর গভীর টান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শ্রাদ্ধ’ কবিতায় নীলফামারী বাজারের ঐতিহ্যবাহী বেগুনের উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা থেকে সেই বিষয়টিও গানের সুরে তুলে ধরেছিলেন ফারুক ভূঁইয়া।
জানাজা ও দাফন আজ
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাদ মাগরিব নীলফামারী কলেজ স্টেশন আদর্শ হাইস্কুল মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে নীলফামারী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
ফারুক ভূঁইয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। সংগীতচর্চা, গুণী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণ করছেন তাঁরা।
তাঁর প্রয়াণে উত্তরবঙ্গের সংগীতাঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, সাংগঠনিক উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
