দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক, সভা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এলাকায় নিরাপত্তার কড়াকড়িও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেছিলেন ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। হাতে তাঁর গীতা। সেই গীতা শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নিরাপত্তা আধিকারিকরা কি তাঁকে সেই সুযোগ দেবেন? বৃদ্ধকে দেখে থমকে যায় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি। বৃদ্ধকে কাছে ডেকে নেন শুভেন্দু।
আট নম্বর নর থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ জ্ঞানেন্দ্র সরকার সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন ওই জায়গায়। হাতে একটি ব্যাগে রয়েছে গীতা। বৃদ্ধের পরণে গেরুয়া বসন। মুখ্যমন্ত্রীকে একবার সামনে থেকে দেখে ওই গীতা উপহার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী এদিন গাড়ি করে প্রশাসনিক বৈঠক করার জন্য রবীন্দ্র ভবনে ঢুকছিলেন। সেসময় তিনি ওই বৃদ্ধকে দেখে গাড়ি থামান।
নিরাপত্তা রক্ষীদের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধকে সামনে ডাকিয়ে আনেন। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে দেখে আপ্লুত ওই বৃদ্ধ। শুভেন্দুর জন্য আনা গীতা হাতে তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই উপহার গ্রহণ করে কপালে ঠেকান। ওই বৃদ্ধকেও শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ভালো থাকুন। আশীর্বাদ করুন।” মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে ওই বৃদ্ধ কেঁদে ফেলেন। শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে থেকে কেবল দেখাই নয়, উপহার দিয়ে ঘোর কাটছে না ওই বৃদ্ধের।
এদিন কাকদ্বীপ রবীন্দ্রভবনে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথমে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তারা ছাড়াও ছিলেন পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানা, মথুরাপুর এর তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার, গোসাবার বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর। রবীন্দ্র ভবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কর্তাদের নানা নির্দেশ দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
