যুক্তরাষ্ট্রে শিকাগোর শহরতলি এলাকায় একটি মন্দিরে বড় ধরনের বন্দুক হামলা ও গণহত্যার ছক বানচাল করেছে দেশটির পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অ্যালেন আলেকজান্দ্রেস প্যাপোরাকিস নামে ১৯ বছর বয়সী এক মার্কিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্যালাটাইন শহরের পুলিশ গত রোববার প্যাপোরাকিসকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। সে টেকো বেল রেস্তোরাঁর একজন কর্মী ছিল। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়া এবং ১৬ ইঞ্চির চেয়ে ছোট ব্যারেলের রাইফেলসহ অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সে ইলিনয়ের অরোরা এলাকার সবচেয়ে বড় হিন্দু মন্দিরটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত প্যাপোরাকিস নিজেকে ‘শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী’ ও ‘নিও-নাৎসি’ হিসেবে পরিচয় দিত। বর্ণবিদ্বেষ থেকে বিশেষ করে ভারতীয়, ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
আদালতের নথিসূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন প্যাপোরাকিস তার এক সহকর্মীকে বলেছিল যে দিনটি একটি ‘বিশেষ দিন হতে যাচ্ছে’। পরবর্তীকালে সে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু তার ব্যবহৃত রাইফেলটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরে সহকর্মীকে ফোন করে সে জানায়, তার রাইফেল জ্যাম হয়ে যাওয়ায় সে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেছে। সহকর্মী বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানালে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্তের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র, বডি আর্মার, ম্যাগাজিন এবং বর্ণবিদ্বেষমূলক ম্যানিফেস্টো উদ্ধার করেছে, যেখানে সে ভারতীয়দের হত্যার পরিকল্পনা বিশদভাবে তুলে ধরেছিল।
গতকাল বুধবার কুক কাউন্টি বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে প্রাক-বিচার আটকাদেশ দিয়েছেন। আগামী ৩০ অক্টোবর তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই মামলার থ্রেড নিয়ে বিশদ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
