আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে ঘরে ঘরে শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তরা ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য কামনায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এ রাতে অনেক ভক্ত রাত জেগে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার পালন করেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রোববার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে। তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তাঁকে উন্নতি, আলো, জ্ঞান, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবেও পূজা করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থরা সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে আসছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণরূপে অবতার গ্রহণ করলে লক্ষ্মী যথাক্রমে সীতা ও রাধারূপে তাঁর সঙ্গিনী হন বলে প্রচলিত রয়েছে।
‘কোজাগরী’ শব্দটি ‘কে জাগরী’ বা ‘কে জেগে আছ’ কথার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে আগমন করেন এবং তাঁদের ধন-ধান্য ও সমৃদ্ধিতে আশীর্বাদ করেন। এ রাতে যাঁরা জেগে থেকে দেবীর আরাধনা করেন, তাঁদের প্রতি দেবীর বিশেষ কৃপা বর্ষিত হয় বলে বিশ্বাস করেন ভক্তরা। এ কারণেই লক্ষ্মীপূজার এ আয়োজনের নাম কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা।
কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন, উভয়ভাবেই অনুষ্ঠিত হয়। ঘট বা প্রতিমায় দেবীর পূজা করা হয়। পূজার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের মধ্যে রয়েছে সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপচাল ও জল।
পূজা উপলক্ষে বাড়ির আঙিনা ও প্রবেশপথে চালের গুঁড়া দিয়ে আঁকা হয় নানা নকশার আলপনা। অনেক বাড়িতে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার রীতিও প্রচলিত রয়েছে। পূজার পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মীকে নিয়ে প্রচলিত কাহিনি ও ধর্মীয় আখ্যান ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ পাঠ করা হয়। অনেক ভক্ত এ উপলক্ষে উপবাসব্রত পালন করেন।
আশ্বিনী পূর্ণিমার পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে প্রতি বৃহস্পতিবার দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা করেন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যায় সন্ধ্যাবেলা লক্ষ্মীপূজার রীতিও প্রচলিত রয়েছে।
আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাঙালি হিন্দু পরিবারের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার মধ্য দিয়ে ঘরে শান্তি, সুখ, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইএন/এসএ
